রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » আইন করা হোক, ‘জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা’ দণ্ডনীয় অপরাধ



আইন করা হোক, ‘জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা’ দণ্ডনীয় অপরাধ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.10.2021

নিউজ ডেস্ক: ‘৭১-এর মুক্তি সংগ্রামে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। সেই মহানায়ককে বিএনপি-জামায়াত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেবার প্রক্রিয়া চালিয়েছে দীর্ঘকাল।

একজন সেক্টর কমান্ডারকে বানাতে চেয়েছে স্বাধীনতার ঘোষক। কিন্তু গায়ের জোরে আর ক্ষমতার শক্তি দিয়ে সত্যকে মুছে ফেলা যায় না। ইংরেজিতে একটি কথা আছে Time is a Great Healer. এখন মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতির পালা শেষ। তরুণ প্রজন্ম আর অন্ধকারে নেই। তারা জানে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান স্বাধীনতা অর্জনের সঠিক ইতিহাস। যেখানে জিয়ার বিন্দুমাত্র অবদান ছিল না। অথচ স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এখনও বলে বেড়ায় জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক।

তাইতো এখন সর্বমহলে দাবি উঠেছে, স্বপরিবারে জাতির পিতার খুনিকে যেন কেউ স্বাধীনতার ঘোষক বলতে না পারে। তাই আইন করা হোক- ‘জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা’ দণ্ডনীয় অপরাধ। বিএনপি-জামায়াতসহ প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো যেন আর জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

ইতিহাসের দলিল ঘেটে দেখা যায়, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ওয়্যারলেস, টেলিফোন ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু আরেকটি লিখিত বার্তা সর্বত্র প্রেরণ করেছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান দু’বার স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। কিন্তু তিনি কখনোই নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি।

এদিকে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বেলাল মোহাম্মদের অনুরোধে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন ২৭ মার্চ সন্ধ্যায়। মজার ব্যাপার হলো আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ। সবকিছু জেনেশুনেও বিএনপি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। আর এই ঘোষণার পাঠক শুধু জিয়া একা নন।

ত্রিশ লক্ষ মানুষের জীবনদানসহ এ দেশের স্বাধীনতার জন্য দুই লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন, পনেরো লক্ষেরও বেশি মানুষ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামীসহ প্রভৃতি দলের বিভিন্ন ঘাতক বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে নানাবিধ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আর পাকিস্তানি গুপ্তচর জিয়া সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে খুনীদেরসহ স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদেরই পুনর্বাসন করেছেন।

এমন একজন ঘৃণীত ব্যক্তিকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করা দেশদ্রোহীতার শামিল বলে মনে করে তরুণ প্রজন্ম। তাই প্রগতিশীল তরুণ প্রজন্মসহ সর্বমহলে দাবি উঠেছে, জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা আইন করে বন্ধ করা হোক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি