রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



ভারত, যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না হওয়ায় চীনপন্থী হচ্ছে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.10.2021

মির্জা ফখরুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক : কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না বিএনপির। কিছুদিন আগেও যে বিএনপি চেয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে, পশ্চিমা দেশগুলোর আস্থাভাজন হতে। এখন সেই বিএনপি তার পররাষ্ট্রনীতি কৌশল বদলে ফেলেছে। ২০১৭ সাল থেকে বিএনপির মধ্যে একটা ভারতমুখী কূটনীতি দৃশ্যমান ছিলো। ভারতের মন গলাতে বিএনপি নেতারা ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু গত তিন মাসে বিএনপির এই অবস্থান পাল্টে গেছে। বিএনপির নেতারা এখন চীনে ঝুঁকেছে। বিএনপির অনেক নেতাই চীনের সঙ্গে গভীর এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য বিভিন্ন রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়াও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপি নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছে।

বিএনপির পুরো পররাষ্ট্রনীতি কৌশল দেখে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সেখান থেকেই তিনি চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছেন বলে ঢাকায় বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এর মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বৃদ্ধি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য যিনি আন্তর্জাতিক বিষয় দেখাশোনা করেন তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আগামী এক দেড় বছরের মধ্যে ভারতের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে। তিনি বলেন, গত এক যুগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ছিলো চূড়ান্ত। ভারত যেটা বলতো সেটি হতো। তার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক বিষয়টি পুরোপুরি ভারতের উপর ছেড়ে দিয়েছিল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারত যদি সমর্থন না দিতো তাহলে ২০১৪ সালের নির্বাচন করা এবং নির্বাচন করে ৫ বছর টিকে থাকা আওয়ামী লীগের জন্য অসম্ভব ছিলো।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতসহ অধিকাংশ দল বর্জন করে। কিন্তু তারপরও ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ওই নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগ সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলো। বিএনপির অন্য একজন নেতা বলছেন, এবার সেটি সম্ভব হবে না। আর সেটি যেন সম্ভব না হয় সেজন্যই বিএনপি এখন চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বিএনপি`র আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করেছি। কিন্তু আগামী নির্বাচনে এমনটি হবে না বলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনে করেন।

তার মতে, এবার ভারত যদি একতরফা নির্বাচনকে সার্টিফিকেট দেয় সেটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং আন্তর্জাতিক মহলেও তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। তার মধ্যে ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগ ভুল বুঝিয়েছিল। তারা বলেছিল, নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। নির্বাচনের পরপরই তারা আরেকটি নির্বাচন দেবে কিন্তু বাস্তবে সেটি তারা করেনি। আর তখন ভারতের যে প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছিলো সেই প্রভাব এখন নেই। কাজেই আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, বিএনপিকে বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচন করবে সেটি সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ আরাফাত বলেন, এটাই বিএনপির সমস্যা। তারা অন্য দেশের ওপর ভর দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচনে আসে। বিএনপির উচিত হবে, অন্য দেশের ওপর নির্ভর না হয়ে দেশের মানুষের জন্য এমন কিছু করা, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। এভাবে অন্য দেশের ওপর নির্ভর করলে আগামী ২০ বছরেও ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি