রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » অর্থের লোভেই শেষ খালেদার সেই আপসহীনতা!



অর্থের লোভেই শেষ খালেদার সেই আপসহীনতা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.10.2021

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বিএনপির রাজনীতিতে বলা হয়ে থাকে আপসহীন নেত্রী। বলা হয় যে, তিনি আপস করতে জানেন না। কিন্তু সেই আপসহীন নেত্রী এখন প্রতি পদে পদে আপস করছেন কেন? এই প্রশ্ন বিএনপির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

খালেদা জিয়ার আপসহীন নেত্রীর তকমাটি প্রথম লাগে ১৯৮৬ সালের ৭ মের নির্বাচনে। ঐ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিএনপি অংশগ্রহণ না করে এরশাদকে এক ধরনের সার্টিফিকেট দেওয়া হয় এবং তিনি নির্বাচনে যেতে তার সব অবৈধ কর্মকাণ্ড বৈধ করেন। অবশ্য নির্বাচনের পরপরই খালেদাকে জিয়া আপসহীন নেত্রী বলা শুরু হয়। উল্লেখ্য, স্বৈরাচার পতনের পর খালেদা জিয়া নির্বাচনে বিজয়ী হন। কিন্তু তার আদর্শহীন রাজনীতি তাকে ক্ষণিকের জন্যে আপসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত করালেও চিরস্থায়ী কোনো আপসহীন নেতায় পরিণত করতে পারেনি।

খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেন থেকে আপসের রাজনীতির সূচনা করেন। সেই সময় তিনি সরকারের সঙ্গে আপস করে তার ছেলে তারেক রহমানকে মুক্ত করেন এবং তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তার দ্বিতীয় পুত্র প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকেও খালেদা জিয়া দেনদরবার, তদবির করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠান এবং তারা দুইজনই মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে যান।

তিনি যে আপসকামী নেতা, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় ২০২০ সালে। এই সময়ে তিনি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং নতজানু হয়ে জেল থেকে বের হওয়ার জন্য নিজের পরিবারকে দায়িত্ব দেন। অথচ যারা সত্যিকারের রাজনৈতিক নেতা তারা এরকম আপস করে কখনো অপমানজনকভাবে কারাগার থেকে বের হননি। শুধু এখানেই তার আপসহীনতার শেষ নয়। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি যে, তার বিদেশ যাত্রা নিয়েও এক ধরনের আপস এবং নতজানু নীতি অবলম্বন করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়া যদি আরাম-আয়েশের জীবনের লোভ একটু সংবরণ করতে পারতেন, যদি কারাগারকেই তার রাজনৈতিক পরীক্ষার জায়গা হিসেবে বেছে নিতেন এবং ধৈর্য ধরতেন তাহলে হয়তো বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি সত্যি সত্যি আপসহীন নেত্রী হতেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি