রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বিএনপির বৈঠকে মহাসচিবের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হলো



বিএনপির বৈঠকে মহাসচিবের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হলো


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.10.2021

চিন্তিত ফখরুল

নিউজ ডেস্ক : বিএনপিতে হয়ে গেলো বিশাল রুদ্ধদ্বার ৬ টি বৈঠক। যেখানে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক অবস্থা এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। দুই ভাগে বিভক্ত এই ধারাবাহিক বৈঠকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ খোলামেলা আলোচনা করেছেন। প্রতিটি বৈঠকের ব্যাপ্তি ছিল ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত। এই ব্যাপক আলোচনায় তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকে সুযোগ দেয়া হয়েছে কথা বলার জন্য। আর এই সমস্ত কথাবার্তায় দলের আন্দোলন নিয়ে যেমন হতাশার কথা এসেছে, তেমনি ভবিষ্যতের করণীয় নিয়েও অনেকে আলোচনা করেছেন। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রসঙ্গটি এসেছে বারবার।

বিশেষ করে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা, যারা বয়সের ভারে ন্যুব্জ, যারা অসুস্থ এবং নেতৃত্ব দিতে অক্ষম তাদের পরিবর্তনের কথা বেশ জোরেশোরেই এসেছে বিএনপির এই সমস্ত আলোচনায়। বিশেষ করে শেষ ৩ দিন গত মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবারের আলোচনায় একজন যোগ্য মহাসচিবের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে যিনি দলকে নেতৃত্ব দেবেন অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রয়াত নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নাম যেমন এসেছে তেমনি এসেছে কেএম ওবায়দুর রহমানের নাম। এমনকি অনেকে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের কথাও স্মরণ করেছেন। এই সমস্ত বিবেচনায় বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের কথাও উচ্চারিত হয়েছে আকারে ইঙ্গিতে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একজন সজ্জন ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত কিন্তু বিএনপি তার অবস্থান খুবই নড়বড়ে। একদিকে সিনিয়র নেতারা তাকে গ্রহণ করতে পারেনি অন্যদিকে তৃণমূলের মধ্যে তিনি আস্থাশীল নেতা নন। আর এই রকম বাস্তবতায় বিএনপিকে যদি নতুন করে আন্দোলন শুরু করতে হয় তাহলে একজন সার্বক্ষণিক সুস্থ এবং সাহসী মহাসচিব লাগবে বলে বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, ২০২৩ সালের মধ্যে যদি বিএনপিকে একটি বড় ধরনের আন্দোলন করতে হয় তাহলে মহাসচিব পদে পরিবর্তনের কোন বিকল্প নেই। বিএনপির মহাসচিব নিয়ে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই মহাসচিবের পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এক্ষেত্রে বেশ কিছু নাম উচ্চারিত হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারসাম্য রক্ষার জন্যই মহাসচিব পদে পরিবর্তন করা হয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মন্দের ভালো হিসেবে এই পদেই রাখা হয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা মনে করেন, বিএনপি যদি এখন বড় ধরনের কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় তাহলে মহাসচিব পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

মহাসচিব কে হতে পারেন, এ নিয়ে বিএনপিতে নানামুখী আলোচনা আছে। আর সেই আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভীর গ্রহণযোগ্যতা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত, বিএনপির মধ্যে তিনি এখনো অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি। কিন্তু সমস্যা হলো রুহুল কবির রিজভীও অসুস্থ। তিনি কয়েক দফা হাসপাতালে ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় থাকলেও বিএনপির মতো একটি বড় দলের মহাসচিব হওয়ার মতো কতটুকু সুস্থ সে নিয়ে বিএনপির মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি