রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১



হঠাৎ লন্ডন থেকে কেনো আসলেন শর্মিলা?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.10.2021

নিউজ ডেস্ক : সাধারণ চেক আপের জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ খবর শুনেই লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসে হাজির খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় পুত্র মরহুম আরাফাত হোসেন কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি। ঢাকায় আসার পর শাশুড়ির চিকিৎসা বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও তিনি নানারকম মতামত দিচ্ছেন তিনি। অনেকেই বলছেন সম্পত্তির ভাগ পাবার আশায় ভালোবাসার নাটক করছেন শিথি। যদিও অনেকে আবার এ কারণে তার প্রশংসাও করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার দুঃসহ দিনগুলোতে বারবার বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এক মাত্র তিনিই আসেন। বিশেষ করে তার বড় ছেলের স্ত্রী একজন চিকিৎসক হওয়ার পরও যখন দেশে আসেননি, তারেককন্যা জাইমা রহমান ব্যারিস্টার হওয়ার পরও যখন দেশে আসেননি, তখন সিঁথির ঢাকায় আসা এবং বেগম জিয়ার খোঁজখবর নেওয়াটা প্রশংসিত হয়েছে বিএনপির মধ্যে। এক সময় রাজনীতি থেকে অনেক দূরে থাকা শর্মিলা সিঁথি এই দুঃসময়ে বেগম জিয়ার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বিএনপির অনেকের প্রশংসাধন্য হয়েছেন, আস্থাভাজন হয়েছেন। সেই আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতিদান হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেছেন কিনা, সে প্রশ্ন এখন বিএনপির মধ্যেই ওঠেছে।

বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলে যান তখনও তিনি দু’দফা এসেছিলেন। এরপর দেখা গেছে ২০১৮ এর নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। তারেক রহমানের আপত্তি সত্ত্বেও সিঁথির পছন্দের বেশ কয়েকজন ঐ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিল। সেখান থেকেই বিএনপিতে শর্মিলা যুগের সূচনা হয়েছে। অনেকেই সিঁথিকে তারেক রহমানের প্রতিপক্ষ মনে করেন।

বিএনপির রাজনীতি নিয়ে জিয়া পরিবারে যে বিভক্তি এবং মেরুকরণ, সেখানে শর্মিলা সিঁথি একটি পক্ষ বলেই অনেকে মনে করেন। যে কয়বার তিনি দেশে এসেছেন এবং বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে কথাবার্তা বলেছেন, সে কয়বারই তিনি তারেক রহমানের বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আন্দোলন এবং তার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিঁথির অবস্থান তারেকের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বলেই বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন। এবারও দেশে এসে তিনি তারেক রহমানের পছন্দের ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি দেখা সাক্ষাৎ বা কথাবার্তা বলছেন না। বরং তিনি দেখা-সাক্ষাৎ, কথাবার্তা বলছেন- যারা একসময় বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং রাজনীতি থেকে নিজেদেরকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন বা বিএনপির রাজনীতিতে এখন কোণঠাসা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঁথির সঙ্গে কয়েক দফা সাক্ষাৎ করতে চেয়েও সাক্ষাৎ পাননি। অন্যদিকে বিএনপিতে তারেকের বিপরীতমুখী অবস্থান গ্রহণ করে আছেন বলে শোনা যায় এরকম নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে সিঁথির কথা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অবশ্য যাদের সাথে সিঁথির যোগাযোগ হয়েছে বা কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন যে, এটি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্যেই।

কিন্তু বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, তারেককে নিয়ে যখন একটি মেরুকরণ এবং বিএনপির মধ্যেই যখন তারেককে নিয়ে কোনো কোনো মহলের অস্বস্তি, সেই সময়ে সিঁথির রাজনীতিতে নাক গলানো ইঙ্গিতবাহী। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহলে যখন তারেক জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেই চলে। সকলেই বিএনপিতে নেতৃত্বের পরিবর্তনের কথা বলছেন। এমনকি বিএনপিপন্থী সুশীলরাও নতুন নেতৃত্বের পক্ষে কথা বলছেন। সেই সময়ে সিঁথির ভূমিকা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সিঁথি এখানে নিশ্চয় বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেখভাল করার জন্য এসেছেন। কিন্তু এটিই তার একমাত্র লক্ষ্য যে নয়, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। বরং এর মধ্য দিয়ে একটি রাজনীতি মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে সিঁথি কি হতে যাচ্ছেন তারেকের বিকল্প নেতা?



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি