রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » ৭ নভেম্বর : নিজের আস্থাভাজন বন্ধুকেও হত্যা করেন জিয়াউর রহমান



৭ নভেম্বর : নিজের আস্থাভাজন বন্ধুকেও হত্যা করেন জিয়াউর রহমান


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
07.11.2021

নিউজ ডেস্ক : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীতে শুরু হয় অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান। ওই রাতে জিয়াউর রহমানের ইন্ধন ও বন্ধু কর্নেল তাহেরের তত্ত্বাবধানে কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। মূলত কর্নেল তাহেরের মাধ্যমেই লাইম লাইটে আসের জিয়াউর রহমান। অথচ সেই কর্নেল তাহেরও রক্ষা পাননি ঘাতক জিয়ার হাত থেকে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর প্রথম প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হন ২ জন সেক্টর কমান্ডার ও ১ জন সাব সেক্টর কমান্ডার। ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে ২১ জুলাই ১৯৭৬ সালে ঘাতক জিয়ার হাতে স্বাধীন দেশে প্রথম ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন আরেকজন সেক্টর কমান্ডার। এছাড়া সেনাবাহিনীর ভেতরে ১৩ জন হত্যার শিকার হন। আর তাই হত্যার নৃশংস ভয়াবহতা ৭ নভেম্বরকে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ে পরিণত করেছে। সপরিবারে ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, ৩ নভেম্বর জেলে জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড, ৭ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীতে হাজার হাজার সৈনিক হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসকে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। ৭ নভেম্বর জাসদের ভুলে ক্ষমতা দখলের সুযোগ পায় সুযোগ সন্ধানী জিয়া। জিয়াউর রহমান ও পরবর্তীতে তার দল ক্ষমতায় থাকাকালীন ৭ নভেম্বরকে সিপাহী বিপ্লব হিসেবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করলেও দেশবাসীর কাছে এটি ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ নামেই পরিচিত। ৭ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড তদন্ত ও বিচারের হাত থেকে চিরদিনের জন্য দায়মুক্ত থাকার ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত সুচতুরভাবেই এই দিনটিকে ‘জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস’ রূপে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এটি নিঃসন্দেহে জিয়ার একটি মানবতাবিরোধী পদক্ষেপ।

ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের কারণে কর্নেল তাহের, জাসদ নেতৃবৃন্দ ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সৈনিকেরা কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন করেন জিয়া। কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেন তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতালোভী জিয়া। ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে হত্যাকারীরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীনেরা দেশকে আবারও সে জায়গায় নিয়ে যায়। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার কলঙ্কিত ষড়যন্ত্রের দিন, বিশ্বাসঘাতকতার দিন, পাকিস্তানি ভাবাদর্শের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টার দিন। যেভাবে মূল্যায়ন করা হোক না কেন সেটি কথার কথা থেকে যাবে, যদি সেদিনের হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উন্মোচন ও বিচারের ব্যবস্থা করা না হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি