সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোন ছাড় নেই!



বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোন ছাড় নেই!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.11.2021

নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি পতাকা। আর এই পতাকা এনে দিয়েছেন মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া সেই স্বাধীনতার মূল্য বাঙালির কাছে অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সুতরাং বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুর সম্মানহানি করে কেউ কোন কিছু করলে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সেই সম্মানহানি যদি আওয়ামী লীগের কোন প্রভাবশালী নেতাও করেন তারও ক্ষমা পাবার কোন সুযোগ নেই। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও গাজীপুর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সাথে কথা বলে শীর্ষ নেতৃত্বের এই মত জানা গেছে।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে গোপনে ধারণ করা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মেয়রের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তারা মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। কিন্তু কেউ কেউ বলতে থাকেন, জাহাঙ্গীর প্রভাবশালী নেতা, তিনি পার পেয়ে যাবেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে ক্ষমা করবেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর দুটি অভিযোগ ছিল। একটি হলো, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জাহাঙ্গীর বিভ্রান্তিকর কথা বলেছেন। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মূল চেতনার অংশ। এসব নিয়ে যারা বিতর্কিত মন্তব্য করতে পারে, তারা কখনোই দলের আদর্শের ধারক হতে পারে না। তাদের আওয়ামী লীগ করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

হানিফ বলেন, ‘জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগ—এ দু’য়ের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কারও সঙ্গে কোনো আপোস করবে না। পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোনোমতে ছাড় দেওয়া হবে না। যার যত কাছের মানুষ, যার যত প্রিয় মানুষ হোক না কেন, সেটা দেখার বিষয় না।’

সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে তিনি কিছু বার্তা দিয়েছেন। কী সেই বার্তা তা জানতে চাইলে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, আপনি অন্য যে কোন বিষয়ে ভুল করলে সেটার হয়ত লঘু শাস্তি কিংবা ক্ষমা হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার অবমাননার কোন ছাড় শেখ হাসিনা দেবেন না—আপনি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন। জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সবাইকেই সেই বার্তা দিলেন।

জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের মাধ্যমে দল আরও গতিশীল হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল। তিনি বলেন, দলের নীতি–আদর্শের বিরুদ্ধে যারা যাবেন, কোনো স্তরে তাদের স্থান হবে না। সুবিধাবাদী ও টাউটেরা দল থেকে দূরে থাকবে। দলের আদর্শকে যারা ধারণ করবেন, তারাই দলে থাকবেন, অন্যরা নয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি