সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিএনপির অনশনে খাবারের দোকানিদের রমরমা ব্যবসা



বিএনপির অনশনে খাবারের দোকানিদের রমরমা ব্যবসা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.11.2021

নিউজ ডেস্ক : যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য বহুল প্রচলিত ‘অনশন’ শব্দটিকে আবারো হাস্যকর হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরলো বিএনপি। এরই মধ্যে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে শনিবার (২০ নভেম্বর) অনশন কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।

সূত্র বলছে, বরাবরের মতোই অনশন কর্মসূচি পালনের সময় চেইন অব কমান্ড ধরে রাখতে পারেনি বিএনপি। মাত্র ৭ ঘণ্টা অনশনের কথা থাকলেও অনশন শুরুর দুই ঘন্টাপর বিভিন্ন নেতাকর্মীকে পুরি সিঙ্গারা খেতে দেখা যায়। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতাকর্মীকে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থিত অভিজাত হোটেল বৈশাখীতে কবজি ডুবিয়ে গুরুর মাংস দিয়ে ডাল ভাত খেতে দেখা যায়। যদিও এসময় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বাম হাত দিয়ে মুখ লুকিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন। তবে অন্যান্য নেতারা প্রকাশ্যেই খাবার খান।

অপরদিকে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের পাশের মিডওয়ে হোটেল গলিতে ভ্যান থেকে আনারস কিনে খেতে দেখা যায় বিএনপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে। তাদের একজনের নাম ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপির সাবেক সসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। অনশন কর্মসূচিতে এসে কেন খাচ্ছেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকালে কিছু খাইনি। তাই একটু খাচ্ছি আরকি।’ একই গলিতে দুটি চায়ের দোকানে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী চা-বিস্কুট খেতে ভিড় করেন। আশপাশের অলিগলিতেও সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ সময়ে নয়াপল্টন ও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন খাবারের দোকানিদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিএনপি অনশন কর্মসূচি দিলে বরাবিই তাদের বেশি খাবার বিক্রি হয়। এ কারণে গত বারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, অনশনের কথা মাথায় রেখে উক্ত এলাকার হোটেল মালিকরা অতিরিক্ত খাবার তৈরি করেন। যার সম্পূর্ণ খাবারই দুপুর দুইটার আগে শেষ হয়ে যায়। যে কারণে দোকানিরা বলছেন, আগামীবার বিএনপি অনশন দিলে, এর চেয়ে বেশি খাবার তৈরি করবেন।

বিএনপির একাধিক জুনিয়র নেতা বলেন, আমরা সকালে পেট পুরে খেয়ে এসেছি কারণ, জানতাম ম্যাডামের জন্য ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হবে, কিন্তু সিনিয়র নেতাদের হয়তো ক্ষুধা বেশি লেগেছে তাই ছয় ঘণ্টার আগেই অনশন কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের চেইন অব কমান্ড ধরে রাখতে না পারার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের নিচতলার মিলনায়তনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের স্মরণসভায়ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়। ওই সময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের পেছনে কথা বলা এবং দর্শকসারি থেকে স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির মতো ঘটনাও ঘটে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি