সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১



আবারও কি সহিংস রাজনীতিতে ফিরছে বিএনপি?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.11.2021

নিউজ ডেস্ক: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। কিন্তু এসব কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি জানানোর চেয়ে রাজপথ অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলার দিকেই বিএনপি কর্মীদের বেশি মনোযোগ লক্ষ্য করা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, খালেদার চিকিৎসার দোহাই দিয়ে আবারও কি সহিংসতার পথে ফিরছে বিএনপি।

জানা গেছে, বয়সের কারণে নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মানবিক দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে বাসায় থেকে চিকিৎসার সুযোগ দেয় সরকার। প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আইনবিদদের মতে, দেশের প্রচলিত আইনে সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে সর্বোচ্চ সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এদিকে দেশের নামকরা চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন, দেশের ভেতরেই খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার সকল সুযোগ আছে। এর আগেও দেশেই তার সুচিকিৎসা হয়েছে, ফলে করোনার মত জটিল রোগ থেকে সেরে উঠেছেন তিনি। কিন্তু তারপরও কোন এক অদৃশ্য কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর নাম করে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে বিএনপি।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে শনিবার দেশব্যাপী গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এদিন রাজধানীতে সড়ক দখল করে ব্যাপক গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এরপর রোববার রাতে হঠাৎ করেই রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে প্রজ্বলিত মশাল হাতে রাস্তায় নামেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাবীব উন নবী খান সোহেল বলেন, বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি যদি না দেওয়া হয়, তাহলে আজ যে আগুন মশালে জ্বলছে, সেই আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এই আগুনে সরকারের ক্ষমতার মসনদ তছনছ হয়ে যাবে। তার এই বক্তব্যের পরই সোমবার খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশের নামে সারাদেশে সহিংসতা চালিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে পুলিশের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বিএনপির নেতা–কর্মীরা।বিএনপির নেতা–কর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমানসহ অন্তত তিন পুলিশ আহত হয়েছেন। মাথায় আঘাত পাওয়া ওসি মনসুরকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপির কর্মীদের হাত থেকে সাংবাদিকরাও রক্ষা পাননি। এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট, নরসিংদীতে পুলিশের ওপর হামলা করেছে বিএনপির কর্মীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি আবারও সহিংস রাজনীতিতে ফেরত যাচ্ছে। আগুন সন্ত্রাস, হত্যা, খুনের রাজনীতিতে ফিরছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তাদের মূল বিষয় নয়। চিকিৎসার নাম করে আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করাই বিএনপির লক্ষ্য। তবে এই সহিংস রাজনীতি বাংলাদেশে আবেদন হারিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, বিএনপির এর আগেও এভাবে সহিংসতা করে দেশের জনগণের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। এবার আবারও পুরাতন পথে ফেরত গেলেও জনগণের ঘৃণাই বাড়বে, কোন লাভ হবে না।

এদিকে বিএনপির সহিংসতা মোকাবেলা করতে সরকারও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রোববার তিনি বলেছেন, বিএনপি দোয়া মাহফিল করতে পারে, মানববন্ধন করতে পারে, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি দিতে পারে। কিন্তু মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য, সম্পদ রক্ষার জন্য আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় প্রস্তুত থাকবে। তারা যদি ওই জায়গায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কিংবা জানমাল বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা নেয় তাহলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি