সোমবার ২৯ নভেম্বর ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নিয়ে কটূক্তি, মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কারের দাবি



বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল নিয়ে কটূক্তি, মেয়র আব্বাসকে বহিষ্কারের দাবি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
24.11.2021

গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল স্থাপনকে কেন্দ্র করে কটূক্তি করলেন রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী।

মেয়র আব্বাসের ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়।

আব্বাসের এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে জীবন দিয়ে হলেও বঙ্গবন্ধুর মুর্যাকল বসাতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র আব্বাস। এ ঘটনায় রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী ও প্রগতিশীল মহলে তীব্র ক্ষোভ এবং ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। মেয়র আব্বাসকে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার এবং মেয়র পদ থেকে অপসারণের দাবি উঠেছে।

আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, পারিবারিকভাবেই আব্বাস বিতর্কিত। আব্বাস এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় কুঠারাঘাত করেছেন।

রোববার রাত থেকে আব্বাসের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এক মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। একটি ফার্ম এটি বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু ঠেকে গেছি গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে। যে মুর‌্যালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামী শরীয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না, সব করবো তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (মুর‌্যাল) থাকবে না।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানান, মেয়র আব্বাস এক সময় জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের জেলা পর্যায়ের নেতা ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে আসেন। তার আরও চার ভাই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। আব্বাস নিজেও কাটাখালির শাহাপুরের বাক্কার হত্যা মামলার আসামি। আরেক ভাই জাতীয় পার্টি নেতা আসের আলীও একই মামলার আসামি। আব্বাস ও আসের এ মামলায় সাত থেকে আট বছর জেল খেটেছেন।

আব্বাসের আরেক ভাই রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম ওরফে মানিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লালনভক্ত ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। মানিক বর্তমানে রাজশাহী কারাগারে অন্তরীণ রয়েছে। মানিক পুঠিয়াতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়।

অপরদিকে মেয়র আব্বাসের অডিওটি ফাঁস হবার পর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আব্বাসকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ফেসবুকে শুরু হয়েছে তোলপাড়। চলছে একের পর এক বিভিন্ন ধরনের পোস্ট।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ফেসবুকে আব্বাসকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ভাইকে অপমানজনক মন্তব্য করে এখনো আওয়ামী লীগ করে কীভাবে? কুলাঙ্গার আব্বাসের জনতার আদালতে বিচার হওয়া উচিত। মুখে মিষ্টি কথা আর অন্তরে বিষ, এদের জন্য আওয়ামী লীগের আজ এ অবস্থা। পরিবারের খোঁজ নেন, তাহলেই আসল চরিত্র বেরিয়ে আসবে এই আব্বাসের।… কত বড় বেইমান। মাননীয় নেত্রী, এরকম অসংখ্য আব্বাস আওয়ামী লীগে বিদ্যমান। অভিযান শুরু করুন।’

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমানে রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দফতর সম্পাদক অরবিন্দ দত্ত তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননার জন্য কুলাঙ্গার বেইমান জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী আব্বাস আলীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার, মেয়র পদ থেকে দ্রুত অপসারণ এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বঙ্গবন্ধু ও মুজিব আদর্শের ক্ষেত্রে কোনো আপস চলবে না। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

মেয়র আব্বাসের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং তাকে বহিষ্কারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অসংখ্য পোস্ট লক্ষ্য করা গেছে।

তবে অডিওটি তার নয় বলে দাবি করে পুরো ঘটনা অস্বীকার করেছেন মেয়র আব্বাস। তিনি বলেন, মুর্যা্ল করা যাবে না, মুর্যাসল করলে পাপ হবে, এ ধরনের কথা আমার সঙ্গে কারও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে একটি মহল আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

আব্বাসের এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার আওয়ামী লীগ করার অধিকার থাকে না। কাটাখালির মেয়র বঙ্গবন্ধুর মুর্যানল নিয়ে যদি কোনো কটূক্তি করে থাকে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত ৩ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শানের নোটিশ দেওয়া হয়। আর তাকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় গত ১৯ নভেম্বর।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি