শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » স্থায়ী কমিটি নিয়ে সন্দেহ জোরদার হচ্ছে বিএনপি কর্মীদের মধ্যে!



স্থায়ী কমিটি নিয়ে সন্দেহ জোরদার হচ্ছে বিএনপি কর্মীদের মধ্যে!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
26.11.2021

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে দলের কর্মী এবং নিচু স্তরের কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। দলটির কর্মীরা অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। তাদের অনেকের বক্তব্য, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করার কর্মসূচি দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তামাশার কর্মসূচি দিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য সরকারের সাথে আঁতাত করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেক বিএনপি সমর্থক।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বুধবার দুপুরে ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটিতেও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেগুলো আজকে এখানে আমরা আলোচনা করেছি। ২৫ নভেম্বর যুবদল ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে, ২৬ তারিখে বাদ জুমা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া চাওয়া হবে এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের যারা আছেন, তারা তাদের উপাসনালয়ে প্রার্থনা করবেন। ২৮ তারিখে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করবে, ৩০ তারিখে বিভাগীয় সদরগুলোতে বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

সূত্র জানায়, বিএনপির এই কর্মসূচি ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিএনপির অনেক সমর্থক। তারা অনলাইনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যকে ইঙ্গিত করে দুর্বল কর্মসূচি ঘোষণার জন্য দায়ী করেন।

সাইফুল ইসলাম নামে বিএনপির এক সমর্থক বলেন, ‘দলের নেত্রীর মুক্তি এবং বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি। করোনার মধ্যে এভাবে স্বশরীরে না যেয়ে আমি মনে করি মেইল করে দিলে স্বাস্থসম্মত হতো বিষয়টা। অথবা এসএমএস কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ভাইবারও ছিল। শুধুশুধু এত কষ্ট করার মানে হয় না আসলে কোনো। ডিজিটাল হতে পারল না বিএনপি আর! হায়!’

তাসরিক হাসান নামে আরেক বিএনপির সমর্থক বলেন, ‘বেগম জিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন, বিএনপি দস্তুরমতন সার্কাস অ্যারেঞ্জ করতেছে। ৩০ তারিখ নাকি তাদের বিভাগীয় মহাসমাবেশ!’

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কর্মীদের আবেগ থাকবেই, সেটাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাদেরও বুঝতে হবে, প্রস্তুতি ছাড়া বড় কোন কর্মসূচি পালন করা যায়। শুধু ঘোষণা করলাম, কিন্তু পালন করতে পারলাম না তাহলে সেই কর্মসূচি ঘোষণা করার অর্থ নেই। আবার জ্বালাও-পোড়াওয়ের মত এমন কিছুও করা যাবে না, যাতে করে সরকার আমাদের আরও চেপে ধরতে পারে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে করেই ম্যাডামকে মুক্ত করে ছাড়ব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির আসলে এখন বড় কর্মসূচি পালনের সামর্থ্য নাই। খালেদা জিয়ার জন্য বড় কর্মসূচি ঘোষণার সামর্থ্য থাকলে তো বিএনপি অনেক আগেই তাঁকে মুক্ত করত। কর্মীদের আবেগ থাকবেই কিন্তু বিএনপির নেতারা নিরুপায়। তারা চাইলেও এখন বড় কিছু করতে পারবে না, কারণ খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে কার্যত বিএনপি নামমাত্র টিকে আছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি