সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিএনপির বাকি নেতাদের মতো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলই ভরসা সাদীর



বিএনপির বাকি নেতাদের মতো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলই ভরসা সাদীর


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.11.2021

নিউজ ডেস্ক : ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে অদ্ভুত এক বিশ্বাস নিয়ে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র ও নিজেদের ধ্যান-ধারণায় পরিবর্তন আনে। ক্ষমতা থেকে এক আলোকবর্ষ দূরে থাকা বিএনপি হঠাৎ চিন্তা করে, যদি তাদের আপোষহীন নেত্রীকে আপোষে বাস্তবতা মেনে কোনো হট্টগোল ছাড়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা যায়, তবে হয় তো ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের আবেগকে পুঁজি করে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো, বিএনপিসহ দুর্নীতিগ্রস্ত নেত্রীকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে সাধারণ জনগণ। বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

২০১৭ সালের সেই অদ্ভুত বিশ্বাসের পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির দুর্নীতিগ্রস্থ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আইন মেনে কারাগারে যান। এরপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশের জনগণের সামনে নাকের পানি চোখের পানি, এক করে খালেদাকে মা বলে আখ্যায়িত করে, মায়ের মুক্তির জন্য ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে জনগণকে বিএনপিতে ভোট দিতে আহ্বান করেন। কিন্তু সেবার জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়।

এরপরও হুশ না হলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, ঠিক একই কায়দায় ফের প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি। যার অংশ হিসেবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সরদার সাদী তার ফেসবুকে লিখেছেন, বিধবা, সন্তান-হারা, ভদ্র মহিলাটি কতোই না কষ্টে আছেন।

যদিও সরদার সাদীর এমন স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক গন্ধ পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, বিএনপি সমর্থিত জাহিদ এফ সরদার সাদীর স্ট্যাটাসে নতুন কিছু নেই। তাদের মা মারা যাচ্ছে, খুব কষ্টে আছে, আর বাঁচবে না এমন কিছু। কথায় আছে, শুকনো কথায় চিড়ে ভেজে না। বিএনপির অবস্থা বর্তমানে এমন যে, তারা মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ভোট নিতে চাইছে।

তবে তারা ভুলে গেছে, দেশের মানুষ আবেগী হলেও বাস্তবতা বিবর্জিত কোনো অনৈতিক কাজকে সমর্থন করে না। এ কারণেই, খালেদা জিয়া তিন বছর যাবত অবরুদ্ধ থাকলেও দেশের মানুষের কিছু আসে যায় না।

কারণ বিএনপির শাসনামলের সীমাহীন লুটপাটের কথা মানুষ এখনো ভোলেনি। দেশের মানুষ চায় না, খালেদা জিয়া মুক্তি পাক।

তাই বিএনপির প্রতি অনুরোধ থাকবে, এসব ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে এমন কিছু করেন, যাতে সাধারণ জনগণ ভোট দিতে বাধ্য হয়। তবে এই নিয়মে চলতে থাকলে আগামীতে আর বিএনপির পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি