সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে মহান সংসদকে কলঙ্কিত করলেন বিএনপির হারুন!



পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে মহান সংসদকে কলঙ্কিত করলেন বিএনপির হারুন!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
28.11.2021

মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, দুই লক্ষ মা-বোনকে নির্যাতন করেছে।মানবতাবিরোধী অপরাধী এই দেশটির সমর্থনে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কিছু দর্শক পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিল। এরপর দেশজুড়ে এর প্রতিবাদ শুরু হয়। সারা দেশের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে দেশপ্রেমিক নাগরিকরা যখন এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সেই সময়ে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য দিলেন বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ। তার এই বক্তব্যের পরই নিন্দার ঝড় উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশিষ্টজনরা বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি সেই পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে মহান সংসদকে কলঙ্কিত করেছেন হারুনুর রশীদ।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন হারুন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। পাকিস্তান ক্রিকেট টিম বাংলাদেশের সঙ্গে খেলছে। বাংলাদেশ যা–ই খেলুক না কেন, পাকিস্তানের সমর্থকেরা তাদের পতাকা ওড়াচ্ছে। এটাকে কেন্দ্র করে একটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। মনে রাখতে হবে, তারা কিন্তু আমাদের দেশে মেহমান, অতিথি।’ হারুন আরও বলেন, ‘একটি দেশের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ঠিক নয়। এটি আমাদের জন্য সম্মানের নয়, গৌরবের নয়।’

বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদের এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। পরে তার এ বক্তব্যের জবাবে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশিদ যেভাবে পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে সংসদে কথা বললেন, এতে তার প্রকৃত চরিত্র বেরিয়ে এসেছে। তারা যে রাজাকার, আলবদর, আলশামসের পক্ষে কথা বলছেন ও রাজনীতি করছেন, তারা যে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন না, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ বলেন, জাতির জনককে হত্যার পর জিয়াউর রহমান হত্যাকারীদের শুধু লালন–পালনই করেননি, পাকিস্তানি ধারা বাংলাদেশে প্রবর্তন করার জন্য সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন। একই ধারায় তারা এখনো রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এর প্রমাণ আজ হারুনুর রশিদ সংসদে উপস্থাপন করলেন।

খালিদ মাহমুদ বলেন, তারা মনে করেছিল যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে না। এ বিচার হওয়ায় তাদের সেই মনঃকষ্ট ফুটে উঠছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেছে স্বৈরাচার জিয়া। এর পর জামায়াতের নেতাদের মন্ত্রী বানিয়ে দেশের পতাকাকে অসম্মান করে খালেদা জিয়া। তাদেরই ধারাবাহিকতায় আজকে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করলেন হারুনুর রশীদ। বিএনপির এই সংসদ সদস্য মূলত তারেক রহমানের নির্দেশে এই ঘৃণ্য কাজ করলেন। এই রাজাকারদের প্রতিহত করতে হবে, বাংলার মাটিতে এদের কোন ঠাঁই নেই।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, মহান জাতীয় সংসদ আমাদের রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা। সংসদে তৈরি করা আইনে আমাদের দেশ পরিচালিত হয়। সেই সংসদে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলে সংসদ সদস্য পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন হারুনুর রশিদ। এই ঘৃণ্য কাজের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানান বিশ্লেষকরা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি