সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২



খালেদাকে স্লো পয়জনিং করা হয় যেভাবে!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.12.2021

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা মতামত দিচ্ছেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ। কিন্তু আসলেই কি খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে?

জানা গেছে, ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। এসব অসুখ থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাজীবন শুরু করেন খালেদা জিয়া। এরপর বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেয়। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে বেগম জিয়াকে বাড়িতে থেকে চিকিৎসার সুযোগ দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকেই তিনি নিজ বাসায় থেকেছেন, চিকিৎসাও নিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কাছে।

খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজার এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, বাসার ভিতরে অপরিচিত কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাডামের আত্মীয় এবং বিএনপির নেতারাই শুধু সেখানে যেতে পারেন। ম্যাডামকে খাওয়ায় তার পরিবারেরই লোক।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, খালেদা জিয়ার কাছে তার ঘনিষ্ঠ লোকরা ছাড়া অন্য কেউই যেতে না পারলে তাকে বাইরের কেউ কিভাবে বিষ প্রয়োগ করবেন? স্লো পয়জনিং করতে হলে খাবার কিংবা ঔষুধে করতে হবে। বাসায় যেহেতু বাইরের কেউ যেতে পারবেন না তাই অপরিচত কেউ বিষ প্রয়োগের বিষয়টি অসম্ভব। আবার পরিবারের লোকও তার খাবারে বিষ দেবেন না। তাহলে মির্জা ফখরুলের দাবি কি মিথ্যা?

ফখরুলের দাবির সত্য মিথ্যা জানতে হলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আশ্রয় নিতে হবে। বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ২৮ নভেম্বর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা সবাই বিএনপিপন্থী ডাক্তার।

এখন দেখা যাক খালেদার লিভার সিরোসিসে আক্রান্তের কারণ কি? চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত মদ্যপান, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইচ্ছেমত ওষুধ খাওয়া, রাস্তাঘাটে বিক্রি হওয়া দূষিত পানীয়, ব্যবহার করা বরফ, খোলা শরবত বা ফলের মাধ্যমে লিভার সিরোসিসে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে মির্জা ফখরুলের দাবি সত্য নয়। খালেদা জিয়াকে বিষ প্রয়োগ করা হয়নি। খালেদা নিজেই মদ পানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বিষ ছড়িয়েছেন যার ফলে তার লিভার সিরোসিস হয়েছে। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া মইনুল রোডের বাসভবন ছাড়ার সময়ও তার ফ্রিজ ভর্তি মদ পাওয়া গিয়েছিল। সেই মদের নেশাই কাল হয়েছে খালেদা জিয়ার।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি