সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনায় রামপুরায় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, প্রমাণসহ



বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনায় রামপুরায় ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, প্রমাণসহ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.12.2021

নিউজ ডেস্ক : বেশ কয়েকদিন ধরে নিরাপদ সড়ক এবং হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। কোথাও কোনো ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ২৯ নভেম্বর (সোমবার) রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় একজন ছাত্র নিহত হবার পরপরই লাইভে গেলো ‘বাঁশেরকেল্লা’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামের দুটি ফেসবুক পেইজ। আগুন দেওয়া হলো ১০/১২টি বাসে। সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে সরকারের সমালোচনা করে খবরটি প্রকাশ করা হলো। পুরো ঘটনাটি বিএনপি-জামায়াতের সুক্ষ্ম পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সূত্রটি বাংলা নিউজ ব্যাংককে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতারা খালেদা চিকিৎসার দাবিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনের কথা বলে আসছে। কিন্তু দলীয় সামর্থ্যের অভাবে কোনোভাবেই আন্দোলন করতে পারছিল না তারা। তাই শিবির নেতা সালাউদ্দিন আইউবীসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে এক গোপন বৈঠকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনকে বিপথে নেবার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয় বৈঠকে। তারপর ছাত্রদল-শিবিরের পরিকল্পনায় রামপুরায় বাসচাপা দিয়ে মাইনুদ্দীন ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়।

সূত্রটি আরো জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী জামায়াতের ফেসবুক পেইজ ‘বাঁশেরকেল্লা’র এডমিনসহ পেট্রোল বোমা নিয়ে একাধিক বিএনপি-জামায়াতের কর্মী আগে থেকেই রামপুরা এলাকায় অবস্থান নেয়। বাস চাপায় নিহত নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা হৈ-হুল্লোর করে সাধারণ জনগণকে জড়ো করে একেক করে চলন্ত বাসে আগুন দিতে থাকে। আর লাইভ শুরু করে ‘বাঁশেরকেল্লা’র প্রতিনিধি। সেখানে আরো উপস্থিত ছিল ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে আরেকটি ফেসবুক পেইজের প্রতিনিধি।

প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যানুযায়ী ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে। এর ১২ মিনিট পর ১০টা ৫৭ মিনিটে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ তাদের ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ করে। রাত ১১টায় জামায়াত পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেলে খবরটি প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছে সরকারের প্রতিনিধিরা।ইতোমধ্যে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত থেকে জানা যায়, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামক পেইজটি বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়। এবং এঘটনায় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞজনরা বলছেন, ছাত্রদের আন্দোলনে ভর করে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, রামপুরার ঘটনা থেকে সেটি স্পষ্ট। ছাত্রদের গায়ে তারা কালিমা লেপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ছাত্ররা অনেক দিন ধরে আন্দোলন করছে, তারা কিন্তু কোনো জায়গায় গাড়িতে আগুন দেয়নি। এমনকি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেনি। অথচ সেদিন ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যে ১২-১৫টি বাসে আগুন দেওয়া হলো, এগুলো দুস্কৃতিকারীরা করেছে। এর আগেও কোনো ইস্যুর উপর ভর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করেছে। আজকেও এই ছাত্রদের ওপর ভর করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি