সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » একদা এক নিষ্ঠুর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যার অপকর্মে এখনও আঁতকে ওঠে দেশবাসী



একদা এক নিষ্ঠুর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যার অপকর্মে এখনও আঁতকে ওঠে দেশবাসী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.12.2021

নিউজ ডেস্ক: একজন অমানবিক, নিষ্ঠুর, স্বাধীনতাবিরোধী প্রধানমন্ত্রীর কথা বলতে এসেছি। যিনি যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। জাতির পিতাসহ জাতীয় চার নেতার খুনিদের জেল থেকে মুক্ত করে পূনর্বাসন করেছেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে চাকরি দিয়েছেন।

বলছি, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা। যিনি ’৯৫ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জেনারেল এরশাদ যখন মুমূর্ষু অবস্থায় কারাগারে বন্দী তখন জাতীয় মহিলা পার্টির নেত্রীরা অনশন করেছে, তার স্ত্রী রাস্তায় কেদেঁছে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে স্বামীর চিকিৎসার দাবিতে। কিন্তু তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জামিনতো দূরের কথা এরশাদকে কোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারও সুযোগ দেয়নি।

এখানেই শেষ নয়, বেগম জিয়ার ১০ বছরের শাসনামলে জনগণের সাথেও মানবিক আচরণ করেনি। দমন-নিপীড়ন চালিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উপর। খালেদার এমন আলোচিত নৃশংস, অমানবিক, দেশবিরোধী অপকর্মের ঘটনা থাকছে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য এবং শেখ হাসিনাকে চিরতরে নিঃশেষ করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। যা আদালত দ্বারা প্রমাণিত। বেগম খালেদা জিয়া এই গ্রেনেড হামলার পর ন্যূনতম দুঃখ প্রকাশ করেননি বরং তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়েছিলেন- এমন উদ্ভট মন্তব্য করেন।

১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার বিয়োগান্তক দিন। ক্ষমতায় থাকাকালীন এই দিনে ভুয়া জন্মদিন পালন করতেন খালেদা জিয়া। শুধু ভুয়া জন্মদিন পালন করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বড় বড় কেক কাটার উৎসব করেছিলেন যেন শোকের আবহ নষ্ট হয়। ভেবে দেখুন, একজন মানুষ কতটা অমানবিক হলে জাতির পিতার মৃত্যু দিবসে ভুয়া জন্মদিনের উৎসব করতে পারে!

২০০১-এর অক্টোবরের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পরপরই খালেদার জোট সরকার সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং আওয়ামী লীগের ভোটারদেরকে নির্মূল করার জন্য সশস্ত্র হামলা চালায়। বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ইতিহাসে এটি ছিল একটি নৃশংস ঘটনা।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যাকারীদের যেন বিচার না হয় সেজন্য বিচারের পথরুদ্ধ করেছিলেন খুনি মোস্তাক এবং জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন শপথ নেন তখন আওয়ামী লীগের এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল এর জন্য বিল এনেছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলে অস্বীকৃতি জানান। যা ছিল খালেদার দেশবিরোধী অপকর্মের জ্বলন্ত উদাহরণ।

যুদ্ধাপরাধী হিসেবে স্বীকৃত জামায়াতের নেতাদেরকে সাথে নিয়ে ২০০১ এর মন্ত্রিসভায় বসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদের মত নরঘাতকদেরকে মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকৃতি জানায় খালেদা।

জিয়াউর রহমান জাতির পিতার হত্যাকারীদেরকে কূটনৈতিক চাকরি দিয়ে পুরো জাতিকে কলঙ্কিত করেছিলেন আর খালেদা তাদেরকে পদোন্নতি দিয়েছেন। এরচেয়ে ঘৃণ্য কাজ আর হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন দেশের সুশীল সমাজ।

এখানেই শেষ নয় ৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ৭৫-এর খুনীদেরকে সংসদে নিয়ে এসে পবিত্র সংসদের অবমাননা করেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া স্ব-উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দেয়।

খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে তার দলের ক্যাডাররা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন ডিপ্লোম্যাট, সাবেক অর্থমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ এস এম এস কিবরিয়াকে হবিগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলি করে। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনার জন্য তখন সরকারের কাছে একটি হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছিল কিন্তু খালেদা হেলিকপ্টার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

আওয়ামী লীগের নেতা আহসানুল্লাহ মাস্টারকে গাজীপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যাডাররা। এমনকি তাকে হাসপাতালে নেবার সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি এই খালেদা সরকার।

এতকিছুর পরও খালেদার জন্য মানবিক বর্তমান সরকার। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার পছন্দের ডাক্তার দ্বারা পছন্দে হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, যে মানবিক সুযোগ-সুবিধা তিনি পাচ্ছেন। সত্যিই কি তিনি তার যোগ্য?



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি