সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধান: যেভাবে স্লো পয়জন দেওয়া হয় খালেদাকে



বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধান: যেভাবে স্লো পয়জন দেওয়া হয় খালেদাকে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.12.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে ‘স্লো পয়জনিং’ করা হয়েছে -এমন সন্দেহ প্রকাশ করছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা হঠাৎ করেই বিষয়টি নিয়ে সরকারের দিকে আঙুল তুলছে। তারা বলছে, সরকার খালেদাকে স্লো পয়জন দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ করে বিএনপি এই অভিযোগ তুললো কেন?

সরকারের মানবিক বিবেচনায় এক বছর আট মাস ধরে জামিনে মুক্ত রয়েছে খালেদা। তাহলে এতোদিন পর সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুললো কেনো বিএনপি?

বিএনপির এমন অভিযোগের পরই অনুসন্ধানে নামে বাংলা নিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানী টিম। বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। নিজেদের দোষ ঢাকার জন্যই সরকারের উপর দোষ চাপানোর সিদ্ধান্ত আসে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে। খালেদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিমের মুখ বন্ধ রাখতে দেওয়া হয় ৫ কোটি টাকা।

প্রশ্ন উঠে কেন ডাক্তারদের মুখ বন্ধ রাখতে হলো? অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদার মেডিকেল বোর্ড স্লো পয়জনের বিষয়টি নিশ্চিত হবার পরই লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশে সরকারের উপর দোষ চাপাতে বক্তব্য দিতে শুরু করে বিএনপি নেতারা।

অনেক অনুরোধের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদার মেডিকেল বোর্ডের এক ডাক্তার জানায়, ‘বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রেসক্রিপশনের বাইরে কিছু ওষুধ সেবন করেছেন। এমনকি গতবার সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার পরও তিনি সেই ওষুধ নিয়েছেন। সেসব ড্রাগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার লিভার সিরোসিসের মূল কারণ। এছাড়াও তিনি মদ্যপান করতেন। সেটাও ফ্যাক্ট।’

গোপন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত খালেদা জিয়ার অস্টিওআর্থারাইটিসের চিকিৎসা পুত্রবধু জোবায়দার ব্যবস্থাপত্রেই চলেছে। এই সুযোগে বিএনপির পুরো কর্তৃত্ব নেবার ষড়যন্ত্র করেন তারেক-জোবায়দা। ২০২০ সালে এপ্রিল মাসে লন্ডনে স্লো পয়জনের পরিকল্পনা করেন স্বামী-স্ত্রী। দুজন মিলে পরিকল্পনা করেন, ধীরে ধীরে খালেদার স্মৃতি-শক্তি হ্রাস পাবে। অনান্য অরগান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সময় মারা যাবেন খালেদা। তারপর পুরো বিএনপির নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে তারেক রহমানের কাছে। সেই মোতাবেক শ্বাশুড়ির অস্টিওআর্থারাইটিসের চিকিৎসার বাহানায় হাই-পাওয়ার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং ওরাল পথ্য হিসেবে প্রেসক্রিপশন করেছিলেন ডা. জোবায়দা। এবং নিয়মিত ওষুধগুলো খাওয়ার জন্য মনে করিয়ে দিতেন তিনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা উপশমের জন্য এ ধরনের ওষুধ খাওয়ার ফলে লিভারে আক্রান্ত হন খালেদা। এছাড়া আরো কিছু উপাদান পাওয়া গেছে খালেদার রক্তে যা ধীরে ধীরে স্মৃতি শক্তি হারাতে সাহায্য করে। আর দীর্ঘদিন এ উপাদান শরীরে থাকলে একসময় রোগী মারা যায়।

বিএনপির একটি গোপন সূত্র জানায়, তারেক-জোবায়দা কর্তৃক খালেদাকে স্লো পয়জনের বিষয়টি মির্জা ফখরুল, রুহুল কবির রিজভীসহ হাতেগোনা কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানেন। আর তারাই তারেকের নির্দেশে সরকারের উপর দোষ চাপানোর জন্য মিথ্যা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি