সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » সাংগঠনিক টিমের নামে তারেকের ৪০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, ছাত্রদলে হতাশা!



সাংগঠনিক টিমের নামে তারেকের ৪০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, ছাত্রদলে হতাশা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.12.2021

সংগঠনের তৃণমূলে শৃঙ্খলা রক্ষা, তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠন ও দলীয় কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৪০টি সাংগঠনিক টিম গঠন করেছে ছাত্রদল। কিন্তু প্রতি কমিটির জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। কমিটি পুনর্গঠন এবং কর্মসূচি সফল করার নামে তারেকের চাঁদাবাজির ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।

জানা গেছে, বুধবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের বর্ধিত সভায় কমিটি গঠন হয়। সভায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যোগ দেন। বৈঠক দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে টিম গঠনের জন্য বিভিন্ন সময় নির্যাতিত এবং রাজপথে থাকা নেতাদের যুক্ত করার দাবি ওঠে। কিন্তু এসব দাবির বিষয়ে তারেকের তেমন আগ্রহ ছিল না। বরং ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদককে কমিটি প্রতি এক লাখ টাকা করে চাঁদা দেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক। এক সপ্তাহের মধ্যে লন্ডনে টাকা পাঠানোরও নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের এক সহসভাপতি জানান, ঢাকা মহানগর ছাড়া দেশের ৮০টি সাংগঠনিক জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসময় ম্যাডামের চিকিৎসা এবং দল পরিচালনার জন্য কমিটি প্রতি এক লাখ টাকা করে চাঁদা দেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। এতে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। এই দুঃসময়ে আমরা এত টাকা কই পাব!

সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদের নেতাদের তিনটি, যুগ্ম সম্পাদকদের দুটি এবং সহ-সাধারণ সম্পাদকদের একটি করে সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সবাইকে চাঁদার অঙ্ক ভাগ করে দিয়েছেন তারেক। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন, তাদের কমিটি থেকে বাদ দিতে ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ম্যাডামের অসুস্থতার জন্য সবাই যার যার সামর্থ্যমত টাকা দিচ্ছে আমাদের নেতারা। কিন্তু চাঁদা ঠিক করে দেওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটু হতাশা নেমে আসা স্বাভাবিক। তবে আমরা সংগঠনকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করব। আর ভবিষ্যতে এর চেয়েও বেশি টাকা নানাভাবে ইনকামের সুযোগ আসবে, সুতরাং এত হতাশ হলেও চলবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি