সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২



নাসিক নির্বাচন: কোন পথে হাঁটবে বিএনপি?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.12.2021

নিউজ ডেস্ক: জনসমর্থন শূন্য, নির্বাচন এলেই তাই নানা বাহানায় তা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। তবে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা এই বর্জনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে নতুন অবস্থানে যাবে বলে জানা গেছে। কারণ, দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানীর পাশের এই সিটি নির্বাচনকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেজন্য কৌশল অবলম্বন করে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিতের কথা ভাবছেন। তবে কারা থাকছেন প্রার্থী হিসেবে তা এখনও পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে অংশ না নিয়ে যে ভুল বিএনপি করেছে, তা এখন শুধরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দলটির নেতাকর্মীরা। তাই আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন নিয়ে এবার কৌশলী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তারা। ইতোমধ্যে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন। তবে সেই অংশগ্রহণ সরাসরি ধানের শীষ প্রতীকে নয়। হবে স্বতন্ত্র অংশগ্রহণ।

আর এ খবর জানার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচন করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জানানো হয়েছে। এখন দলের হাইকমান্ড ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিলেই তারা প্রচারণার কাজে মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাংলানিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবির জন্য হলেও এই নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের কথা জানাবে মানুষকে। তাছাড়া আগের সব নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল দল করেছে, তার আর পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। সে কারণেই রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলার এই নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্রতার মোড়কে’ হলেও বিএনপির প্রার্থী অংশ নেবে। কে জানে, ভাগ্য ফিরলেও তো ফিরতে পারে, তাই না!

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে (নাসিক) আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৭ ডিসেম্বর ও প্রচার শুরু ২৮ ডিসেম্বর। তাই এ অবস্থায় আমার সিদ্ধান্ত, দলের স্বার্থে আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। যদি দল সেটা চায়। সকল ধরণের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি সেজন্য। ‘সবুজ সংকেত’ পেলেই মাঠে নামবো।

একই কথা অপর পদপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনেরও। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলাম, নির্বাচন করেছি। এবার দলে যদি চায়, তবে তবে মনোনয়নপত্র জমা দেব। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, নির্বাচনের বাহানায় বিএনপি দেশে সহিংসতা করার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চাইছে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে। এমতাবস্থায় সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা তাদের নোংরা গন্তব্যে পৌঁছে দেশকে আবার পিছিয়ে দিতে না পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি