শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২



২০ দল: ভাঙতে ভাঙতে তলানিতে ঠেকলো বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
10.12.2021

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে এখন। নামে ২০ দল হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে দলের সংখ্যা। বর্তমানে জোটে দল রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে এমন তিনটি দল রয়েছে, যা এক ব্যক্তিনির্ভর। পাশাপাশি একটি দলের চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। এছাড়া ধর্মভিত্তিক দলগুলোও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে চলে গিয়েছে। পাশাপাশি আন্দালিভ রহমান পার্থের দল জাতীয় পার্টিও (বিজেপি) জোট ছেড়েছে দুই বছর হলো। কর্ণেল অলির এলডিপি অথবা মেজর জেনারেল (অব:) ইব্রাহিমের কল্যাণ পার্টি, নাম সর্বস্বদলগুলোরও যাই যাই অবস্থা। বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করার কারণেই মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সেনা-সমর্থিত সরকারের অধীনে ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এখন অকার্যকর। অনেক দিন হলো এ জোটের কোন কার্যক্রম নেই। সর্বশেষ ২০ দলের বৈঠক হয় গত বছরের জুলাই মাসে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈঠক কিংবা কোনো কর্মসূচি না থাকা নিয়ে জোটের কোনো নেতাই মুখ খুলছেন না। শুরুতে ২০১২ সালে জোটে ২০টি রাজনৈতিক দল থাকলেও বিভিন্ন সময়ে শরিকদের অনেকেই জোট ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। সপ্তম দল হিসেবে সবশেষ গত ১ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যায় কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস। এর আগে ২০১৬ সালের ৭ জুন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি ঐক্যজোট (নিবন্ধিত)। ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (নিবন্ধিত), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও লেবার পার্টি, ২০১৯ সালের ৬ মে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ (নিবন্ধিত) এবং ১৪ জুলাই জোট ছেড়ে যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (নিবন্ধিত) । বিজেপি ছাড়া এসব দলের একটি অংশ ২০-দলীয় জোটে থাকলেও তাদের নিবন্ধন নেই। জোটের আরেক শরিক কল্যাণ পার্টিও ইতোমধ্যে বিএনপিকে একাধিকবার ২০ দল ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যে কোন সময় এ জোটের কার্যক্রম বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, ২০ দল একটি নির্বাচনি জোট। বড় দল হিসাবে বিভিন্ন কর্মসূচিসহ নানা ইস্যুতে বিএনপির একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। সেখানে ক্ষোভ বা হতাশার কিছু নেই। নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও জোটের ঐক্য অটুট আছে।

২০ দলের কার্যক্রম ও বিএনপির মনোভাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, ২০ দলের সবগুলোর নাম এবং তাদের নেতাদের নাম কেউ বলতে পারে? কেউ ২০ দলের সবগুলোর নাম জানে না। নেতার নামও জানে না। ২০ দলের এক দল বিএনপি ছাড়া বাকি সবগুলো বিএনপির উপর নির্ভরশীল। ফলে অন্যান্য দলগুলো যদি বিএনপির মতো করে প্রভাব রাখতে চায়, একই সুরে কথা বলে, তাহলে তো হবে না। ২০ দলের যারা আছে তারা বিএনপির সমর্থন ছাড়া কখনো কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারবে? সে যোগ্যতা আছে? ফলে জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য ওনাদের ২০ দলের বৈঠকে বসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেজর আখতারুজ্জামান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে জোটের শরিকদের তেমন মূল্যায়ন করছে না বিএনপির নেতারা। এখন তো শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৈঠক পর্যন্ত হয় না তাদের। ২০১৪ সালে জোটের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়েছিল। তবে তা ক্রমান্বয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাসে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি