সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ‘খালেদাকে মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধন করা ইতিহাসের বরখেলাপ’



‘খালেদাকে মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধন করা ইতিহাসের বরখেলাপ’


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.12.2021

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, একাত্তর সালে খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন, তিনি বন্দী ছিলেন না। তাই তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা বলা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কটাক্ষ করা।

খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা অভিহিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতিহাসের বিকৃত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাটি প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত হয়।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়া বন্দী ছিলেন না। তিনি ক্যান্টনমেন্টে স্বেচ্ছায় জীবন যাপন করেছেন। খালেদা জিয়া যখন চট্টগ্রামে ছিলেন, সেখান থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করা সহজ ছিল। কিন্তু তা না করে তিনি ক্যান্টনমেন্টে সুখে–স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন। তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা সম্বোধন করা ইতিহাসের বরখেলাপই শুধু নয়, এটা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কটাক্ষ করাও।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিশু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেও বিএনপির মহাসচিব বক্তব্য দিয়েছেন। তবে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বলে কিছু আছে, এটা আমার (মন্ত্রীর) জানা নেই। এ কথা বলেও মির্জা ফখরুল মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করেছেন ও ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছেন।’

ক্রিকেট খেলার মাঠে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়েছে—এটা খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা কেবল পতাকা হাতে নিয়েই স্লোগান দিচ্ছে না, মুখে পাকিস্তানের পতাকা এঁকে উল্লাস প্রকাশ করেছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান বিশ্বে বিরল। এ সংবিধানের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেক ব্যাখ্যায় অনেক বিচারক বলেছেন, আমাদের সংবিধানটা অনেক ইউনিক। এটা অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দলিল নয়।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘এটা কারও কাছ থেকে পাওয়া দয়া-দক্ষিণা না। এটা আমাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেরই ফসল। আমাদের স্বাধীনতা আমরাই অর্জন করেছি। সেইটাই আমাদের বাহাত্তরের সংবিধান।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি