সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২



বিজয় র‌্যালিতেও বিএনপির হাতাহাতি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.12.2021

শোভাযাত্রা

নিউজ ডেস্ক: ১৬ ডিসেম্বর সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পরে ঘটে ভাংচুরের ঘটনাও। তার রেশ না কাটতেই এবার বিজয় শোভাযাত্রাতেও ঘটলো একই ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, ১৯ ডিসেম্বর (রোববার) দুপুর ২টায় বিজয় শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা থাকলেও সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরা থেকে ফকিরেরপুল সড়কের দুই পাশে বিক্ষিপ্তভাবে নেতা-কর্মীদের অবস্থানের ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সাবেক ছাত্রদল নেতা ওবায়দুল হক নাসির সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন। একপর্যায়ে সেখানে সেলফি তোলা নিয়ে উপস্থিত ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা পরে তা গড়ায় হাতাহাতিতে।

তবে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেন সেখানে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল মাহমুদ টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হট্টগোলে লিপ্ত হন। একে-অপরকে বিজয় র‌্যালি শেষে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বাংলা নিউজ ব্যাংক যোগাযোগ করে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, হাতাহাতির ঘটনাটি সম্পর্কে শুনলাম। বিষয়টি দুঃখজনক। তবে কে বা কারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনবোধে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা। কেউ পার পাবে না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। কিন্তু সেখানেও পুনরাবৃত্তি ঘটে সাভারের স্মৃতিসৌধের মতো ঘটনা। ঘটে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি। এ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে, তাদের ভেতরে অনৈক্য এখন চরমে। তলানিতে সাংগঠনিক অবস্থা। যারই প্রতিফলন পরপর এমন দুই ঘটনা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি