শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২



গয়েশ্বরকে পুরান ঢাকার গাদ্দার বললেন রিজভী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
20.12.2021

গয়েশ্বর ও রিজভী

নিউজ ডেস্ক: দলীয় অন্তর্কোন্দলের জেরে আবারো ভেস্তে গেলো বিএনপির জনসভার পরিকল্পনা। জানা গেছে, বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও রুহুল কবির রিজভীর দ্বন্দ্বের জের ধরে জনসভার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে দলটি।

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে ১৯ ডিসেম্বর একটি মিছিল করে বিএনপি। যদিও মিছিলেন নাম ছিলো, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা। তবে উক্ত শোভাযাত্রা আদৌ বিজয় শোভা যাত্রা ছিলো না। এটি ছিলো, খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিল। আর এ কারণেই ভেস্তে যায়, বিএনপির সম্পূর্ণ মিছিল।

জানা যায়, মিছিল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৭ ডিসেম্বর আগস্ট রাতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতাদের নিয়ে এক গোপন বৈঠকে বসেন দলটির মহাসচিব।

সূত্র বলছে, আকস্মিক এই বৈঠকে বিএনপির প্রভাবশালী সকল নেতাই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিজয় দিবসের শোভা যাত্রাকে খালেদা জিয়ার মুক্তির মিছিলে পরিণত করার কথা উঠলেই বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী দলের অভ্যন্তরে মীর জাফর রয়েছে বলে মন্তব্য করে বসেন। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ইঙ্গিত করে বলেন, যতক্ষণ পুরান ঢাকার মীর জাফররা দলের তথ্য পাচার করা না বন্ধ করবে ততক্ষণ এসব সভা করে কোনো লাভ হবে না।

জানা যায়, রুহুল কবির রিজভীর এসব আক্রমণাত্মক বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এসময় গয়েশ্বর চন্দ্র গণমাধ্যমের কাছে বলেন, জরুরি এই বৈঠকে রুহুল কবির রিজভী আমাকে উদ্দেশ্য করে যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে বৈঠকে বসার মতো পরিবেশ নেই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরো বলেন, আমি যা বলি সব সময় সত্য বলি। নির্বাচনে হেরেও যাওয়ার পর বিএনপি থেকে জয়ী নেতাদের শপথের বিরুদ্ধে ছিলাম। বিএনপি নেতাদের শপথ নেয়ার বিষয়টি আমার পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছিলাম। আর এ কারণেই বিএনপির কিছু নেতা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত ঢাকা মহানগরীর এক নেতা বলেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও রুহুল কবির রিজভীর দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে দুজনই দলের অনেক ক্ষতি করেছেন। বর্তমানে যেখানে আমাদের একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন, সেখানে এখনো তারা আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত। আর এসব কারণে শেষ পর্যন্ত আমাদের ১৯ ডিসেম্বরের আন্দোলনটি ভেস্তে যায়। সব মিলিয়ে মাত্র ১১৩ জন কর্মী এসেছে। ভাবা যায়? কতোটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি