শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » পঁচাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল না: তাপস



পঁচাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল না: তাপস


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
21.12.2021

পঁচাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগ করা ব্যক্তিদের কোনো মূল্যায়ন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা মোগলটুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হয়। তারপরই বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা হারিয়ে গেলো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করা হলো, ইতিহাস বিকৃত করা হলো। সে সময় এমন এক ইতিহাস রচনা করা হলো, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো নাম নেই। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে আত্মত্যাগ করেছেন, যারা এ দেশের স্বাধীনতা রচনা করেছেন, তাদের কোনো নাম নেই, কোনো মূল্যায়ন নেই। এভাবে চললো ২১ বছর। এরপর আমরা আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসলাম। বাঙালি জাতীয়তাবাদে ফিরে আসলাম।

স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য একটি জাতিকে প্রস্তুত করতে বঙ্গবন্ধুকে গভীর আত্মত্যাগ ও সাধনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে জানিয়ে তাপস বলেন, যে কোনো কিছু শুরু হয় একটি স্বপ্ন দিয়ে। জাতির পিতা কারাগারে নিষ্পেষিত অবস্থায় স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলে তিনি প্রায় ১৪ বছর কারা নিষ্পেষিত ছিলেন, কারাবরণ করেছেন। এমনও হয়েছে যে, একটি নির্জন সেলে তাকে রেখে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আলো-অন্ধকার কোনো কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। সুতরাং কত দিন পার হলো কত বছর পার হলো সেটাও অনুধাবন করার সুযোগ ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে চরম অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ২০০৮ সালে আমরা আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখলাম। আমাদের স্বপ্ন দেখালেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি সে সময় ১১ মাস কারাগারে নিষ্পেষিত ছিলেন। সেই কারাগারে বসেই তিনি রচনা করলেন ‘দিনবদলের সনদ- রূপকল্প ২০২১’। সেই রূপকল্পে লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি ২০০৮ সালে বলেছিলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। শেখ হাসিনা তার আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে দিয়েছেন।

মোগলটুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জিন্নাতুল বাকিয়া, দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামান, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজি মো. আবু সাঈদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর শাহিনুর বেগম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আব্দুর রহমান, ধর্ম সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, বংশাল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এম সিরাজুদ্দিন বাদল, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ালি হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ বিপুল প্রমুখ।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি