শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » জঙ্গিবাদের মদদদাতা বিএনপি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন



জঙ্গিবাদের মদদদাতা বিএনপি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.12.2021

বাংলাদেশকে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উল্লাস দেখা গিয়েছিল। বিএনপি বলেছিল যে, এটি দেশের জন্য অপমান। তারা ভেতরে ভেতরে বলছিল যে সরকারের উপর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার উপর আরো নানা ধরনের চাপ দেবে। কিন্তু এধরনের আত্মতুষ্টির কিছু সময়ের মধ্যেই দেখা গেল, যে না সরকারের বিরুদ্ধে নয় বরং বিএনপির ব্যাপারেই আরও নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে জঙ্গিবাদ এবং তার মদদদাতাদের ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দুটি অংশ।
প্রথম অংশটিতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্র মৌলবাদ দমনে সরকার কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং সেই ব্যবস্থাগুলো কতটুকু কার্যকর হচ্ছে সে সম্পর্কিত। যেখানে বাংলাদেশ সরকারের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ভূমিকাকে প্রশংসা করা হয়েছে।
দ্বিতীয়টি ক্লাসিফাইড বা গোপনীয় অংশ। সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো কিভাবে বিস্তৃত, কোন দেশের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে কার সংযোগ রয়েছে এবং মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গি নেটওয়ার্ককে কতটুকু সমর্থন দেয় সে সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এটি মূলত মার্কিন নীতি এবং কৌশল পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য নয়। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন ক্লাসিফাইড জঙ্গিবাদ সম্পর্কে মার্কিন প্রতিবেদনের অতি গোপনীয় অংশে বিএনপি’র ব্যাপারে তীব্র নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এবং উগ্র মৌলবাদকে লালন করে বিএনপি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এখনো জঙ্গিবাদ এবং উগ্র মৌলবাদ বাংলাদেশে ক্রিয়াশীল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির গোপন সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু সেই সম্পর্কটি তাদের ভাষায় ‘ওপেন সিক্রেট’। প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, জামাত এবং বিএনপি অভিন্ন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। জামাতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির একটি টেরোরিস্ট (সন্ত্রাসী সংগঠন) হিসেবে চিহ্নিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাল তালিকাভুক্ত। জামাত এখনো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলেও মার্কিন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর জামাতের অবস্থা অনেকটা নাজুক হয়ে পড়লেও বিএনপি’র পৃষ্ঠপোষকতা এবং মদদে জামায়েত ইসলাম আবার নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিবেদনে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামাতের সঙ্গে হিযবুত তাহারীর, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস সহ বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সংগঠনগুলো জামায়েত দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত।  প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেএমবি বা হরকাতুল জিহাদের মতো সংগঠনগুলো আসলে জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত।  প্রতিবেদনে ২০১৮র নির্বাচনে বিএনপি জামাতকে বিশটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে প্রগতিশীল এবং মুক্ত গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামাত এবং মৌলবাদী সংগঠন গুলো। এবং সেই সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে বিএনপি। বিএনপির মধ্যেও উগ্র মৌলবাদীদের একটা বিস্তৃতি ঘটছে বলে জানা গেছে। বিএনপিতে যারা উদার গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনায় বিশ্বাস করে তারা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মুক্ত গণতন্ত্র, উদারনৈতিক চিন্তা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য বিএনপি ক্রমশ হুমকি হয়ে উঠছে।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি