শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল



কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.12.2021

কক্সবাজার

নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারে নারী পর্যটককে গণধর্ষণের ঘটনায় কেঁচো না খুঁড়তেই যেন বেরিয়ে এলো সাপ। জানা গেলো, মূল হোতা আশিকুল ইসলাম আশিকের রাজনৈতিক পরিচয় এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ বলছেন, পর্যটনবান্ধব সরকার যখন দেশীয় পর্যটনের উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে তৎপর, ঠিক তখনই দেশবিরোধীরা আবারও তৎপর। ভরা মৌসুমে কক্সবাজারে ঘটালো নারী পর্যটককে গণধর্ষণের ঘটনা। যাতে দেশের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও মুখ ফিরিয়ে নেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পর্যটন অর্থনীতি। আর এই সুযোগে তারা দাবি করবে সরকার ব্যর্থ। কিন্তু বিষয়টি কি এতোই সহজ? সত্য তো চাপা থাকে না, তা প্রকাশিত হয়েই যায়। আবার কারও ভাষ্য, এটা পরিকল্পিত ঘটনা বৈ অন্যকিছু নয়। কারণ, তারা জানে বছরের এই সময়টাতে পর্যটকে ভরপুর থাকে কক্সবাজার। তাই এটাই মোক্ষম সময়, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার। যাতে দেশ-বিদেশে আওয়াজ ওঠে, সরকার পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, সমুদ্র ছুঁয়ে বিমান নামার জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ, থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুরের আদলে কক্সবাজারকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, সাবরাং, নাফ ও সোনাদিয়া এলাকায় তিনটি বিশেষ পর্যটন পার্ক স্থাপনসহ পাহাড় ভ্রমণের জন্য সাড়ে ৯ কি.মি কেবল কার নেটওয়ার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যাতে বিদেশিরা অনায়াসেই পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে আসতে পারে, পারে নিজেদের অবসর উদযাপন করতে। বাড়ে পর্যটন খাত থেকে আমাদের আয়ও। ঠিক এই সময়ই দেশবিরোধী শক্তি সরকারের এই মহতী প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ঘটালো নারী পর্যটককে গণধর্ষণের ঘটনা। যাতে দেশের পাশাপাশি বিদেশিরাও কক্সবাজার ভ্রমণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পর্যটন অর্থনীতি।

বাংলানিউজ ব্যাংকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডের হোতা আশিকুল ইসলাম আশিক ও তার সহযোগীরা ছাত্রদলের এক সময়ের মাঠ কাঁপানো কর্মী। মিছিল-মিটিং-সমাবেশ সর্বত্রই ছিলো তাদের সরব উপস্থিতি। এমনকি তারা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে গড়ে তোলে নিজস্ব একটা চক্র। যাদের অদ্বিতীয় কাজই ছিলো চুরি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা। ছিলো নারী সাপ্লাইয়ের মতো কাজও। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আশিক বুঝতে পারে, দল ক্ষমতায় নেই তাই ছাত্রদলের নেমপ্লেট আর ব্যবহার করা যাবে না। তাহলে সুবিধা করা যাবে না। সাম্রাজ্য বাঁচাতে এখনই দরকার খোলস বদলানো। যেই ভাবা সেই কাজ। বহিরাগত হয়েও রাতারাতি সে নিজেকে পরিচয় দিতে থাকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে। শুধু তাই নয়, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে নিজের ছবি ফটোশপের কারসাজির মাধ্যমে হয়ে ওঠেন ‘কথিত ছাত্রনেতা’।

এরপরের ইতিহাস আরও ভয়ংকর। অল্পদিনেই তিনি বনে যান অপরাধ জগতের গডফাদার। ইয়াবা-আইস ব্যবসাও তার কাছে হয়ে ওঠে ডাল-ভাত। বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিধি। বর্তমানে জেলায় তার নেতৃত্বে অন্তত তিন ডজন অপরাধীর চক্র সক্রিয়। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অপকর্মের জন্য তিনি কারাগারে থাকেন। জামিনে বেরিয়ে হয়ে ওঠেন আরও বেপরোয়া। টাকার জন্য সব কিছু করতে পারা এই আশিকের বিরুদ্ধে কেবল কক্সবাজার সদর থানাতেই রয়েছে অস্ত্র, ইয়াবা, ছিনতাইসহ অন্তত ১৬টি মামলা। এ সমস্ত কারণে পরিবারের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো না বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শহরের পর্যটন এলাকা কলাতলিতে ইয়াবা ব্যবসা, ছিনতাই, অপহরণসহ সব ধরনের অপকর্ম হয় আশিকের নেতৃত্বে। আর এসব থেকে উপার্জিত অর্থের একটা বড় অংশ যায় লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। যাতে দল ক্ষমতায় এলে জেলায় বড় পদপ্রাপ্তি হয়। মূলত তার পরিকল্পনাতেই আশিক এমনটা করেছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফটোশপে কারসাজির মাধ্যমে যদি কেউ ছাত্রলীগ নেতাদের ছবির সঙ্গে তাদের ছবি জুড়ে দেয়, তাহলেই কি সে ছাত্রলীগ কর্মী? আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে দেশবিরোধীরা আর সরকারকে এভাবে বিব্রত করতে না পারে। একইসঙ্গে পর্যটন নগরীতে এ রকম ন্যক্করজনক ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে। রুখে দিতে হবে তাদের সব ষড়যন্ত্রকে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি