সোমবার ১৭ জানুয়ারী ২০২২



নতুন মহাসচিব তালাশ করছেন তারেক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.01.2022

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবির আড়ালে আসলে বিএনপি তার সংগঠন গুছাচ্ছে। বিএনপি নেতারাই স্বীকার করেছেন, আগে তারা ঘর থেকে বের হতে পারত না, এখন তারা বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করতে পারছেন। এর মাধ্যমে তারা সাংগঠনিকভাবে আগের চেয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারছেন।

বিশেষ করে বিএনপি প্রধান লক্ষ্য হলো, সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা। আর সেই কাজটির প্রাথমিক ধাপ তারা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন।

তারা স্বীকার করেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি বা উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা সংগঠিত হতে চাইছেন। আর বিএনপি যতই সংঘটিত হতে চাইছে ততই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে হয়ে উঠেছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখন মাঠে নেমেছেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মত নেতারা প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন, সভা-সমাবেশ করছেন। এতে বিএনপিতে একটি প্যারালাল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

যেখানে আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাই দলের নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য রাখতেন, সেখানে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন দলে যৌথ নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে, কারণ দলীয় কোন্দল।

বিএনপি যখনই প্রকাশ্যে বের হয়, তখনই দলের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল প্রবল আকার ধারণ করে। নানা রকম বিভক্তি এবং মেরুকরণ প্রকাশ্য রূপ নেয়। আর এ কারণেই এখন তারেক রহমান দলের ভেতরে যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশেষ করে আন্দোলন, কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

তবে এই নির্দেশনার পরও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটছে না। বিশেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তৃণমূল। তাদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতি বিশ্বস্ত নন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেই মির্জা ফখরুল সম্পর্কে বিএনপির নেতা-কর্মীদের এ ধরনের ধারণা।

আর এ কারণেই বিএনপিতে নতুন মহাসচিব নিয়োগের দাবি জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে তারেক রহমান যে নিয়মিত বৈঠক করছেন, তাতে বারবার বলা হচ্ছে একজন নতুন মহাসচিব দরকার।

গতকালও লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান অন্তত ৩টি জেলার তৃণমূলের সাথে ভিডিও কনফারেন্স বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে মহাসচিব পরিবর্তন করে একজন শক্তপোক্ত ও কর্মঠ এবং দলের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে সক্ষম ব্যক্তিকে মহাসচিব করার ব্যাপারে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তৃণমূলের দাবিকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে ভাবছেন। ফলে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মির্জা ফখরুলের গদি এখন নড়বড়ে অবস্থায়।

তবে কাকে মহাসচিব করা হতে পারে, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, তারেক রহমান মহাসচিব করার জন্য বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।

পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, আগের চেয়ে বিএনপিতে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। আগে যেমন বিএনপির কোনো নেতাই মহাসচিব হতে রাজি ছিলেন না, কিন্তু এখন যখন বিএনপিতে একটু চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তখন মহাসচিব হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা কম নয়।

তবে অপেক্ষাকৃত তরুণ কারো হাতে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার পক্ষে তৃণমূল। তাদের মতে, বিএনপিকে আরো বেশ কিছু সময় আন্দোলন করতে হবে। আর মাঠের কোনো নেতা যদি মহাসচিব হন, তাহলে তিনি দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন নেতৃত্বকেই মহাসচিব পদেই দেখতে চায় বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। আর এক্ষেত্রে মির্জা আব্বাস ও খন্দকার মোশাররফই এগিয়ে আছেন। তবে মহাসচিব খোঁজাটা তারেক রহমানের আরেকটি কৌশল নাকি বাস্তবতা, এটি এখনও পরিস্কার নয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি