সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২



সংকটেও বিভক্তিতে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.01.2022

দলীয় চেয়ারপারসনকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। দীর্ঘ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। বেগম জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সারা দেশের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে দফায় দফায় আন্দোলন করছেন। আগামীতেও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সবকিছু ছাপিয়ে দলের স্বার্থে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা এক হলেও ভিন্নচিত্র দেখা গেছে মৌলভীবাজারের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে।

দলীয়প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সন্ধিক্ষণেও জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। যার কারণে বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন তীব্র হচ্ছে না মৌলভীবাজারে। কেন্দ্রীয় অনেক কর্মসূচি এ জেলায় স্বত:স্ফূর্তভাবে পালন হয়নি। দায়সারা কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দীর্ঘ দিন যাবত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এমন বিভক্তিতে দলের ত্যাগী নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ফলে এর অঙ্গ-সংগঠনেও এর প্রভাব পড়েছে।

জানা যায়, মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানের নেতৃত্বে তার পক্ষের নেতাকর্মীরা সকাল পৌনে ১০টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে তার পক্ষের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। তখন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া মুক্তির স্লোগান এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানান।

এদিকে ৮ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান পৃথক পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেন।

জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার পরপরই দুইপক্ষে বিভক্ত হয়েছেন তাদের অনুসারীরা। জেলায় দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। হোটেলে কিংবা বাসা-বাড়িতে ঘরোয়া আড্ডার মধ্যেই দলীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। দলের এ অবস্থা দেখে হতাশ সিনিয়র নেতারা। এদিকে জেলা বিভক্ত হওয়ার পরপরই উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটিতেও এর প্রভাব পড়ছে। অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দুই ভাগে বিভক্ত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বিএনপির সম্মেলনের পূর্বে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির দুইপক্ষের সমন্বয়ে এম নাসের রহমানকে সভাপতি, খালেদ রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল মুকিতকে যুগ্ম-সম্পাদক করে ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন কমিটির অনুমোদন দেন। এরপর উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে কেন্দ্র থেকে একাধিকবার নেতৃবৃন্দ মৌলভীবাজারে এলেও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের হেরফের ঘটেনি। দীর্ঘ ৮ বছর দুইপক্ষে বিভক্ত থাকার পর পুনরায় কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড ২০১৭ সালের ২৫ মে এম নাসের রহমানকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি ঘোষণা করেন। তিন দিনের মাথায় আবার উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন মেরুকরণে বিভক্তি দানা বাঁধে।

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে সভাপতির অনুসারীরা। পরবর্তীতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভক্তির নিরসন ঘটে। কিন্তু কিছু দিন একত্রে থাকার পর ফের দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সম্প্রতি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির হাইকমান্ড ঢাকায় একাধিক সভা করে। এতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলে বিভক্তি নিরসনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মৌলভীবাজারের নেতারা এর কিছুই আমলে নেননি। পরস্পরবিরোধী আন্দোলনেই তারা ব্যস্ত।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, নেত্রীর সংকটাপূর্ণ অবস্থায় বিভক্তি কোনো অবস্থাতে কাম্য নয়। তবে যেকোনো কাজের জন্য উভয়ের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে এবং উভয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু এটা আমাদের মধ্যে নেই। সবাইকে নিয়ে দল পরিচালনার মানসিকতার অভাব রয়েছে। তবে বিভক্তি নিরসনের জন্য কেন্দ্রে একটি আলোচনা হচ্ছে।

জেলা সভাপতি এম নাসের রহমান বলেন, কিছু কর্মী হয়তো আলাদা থাকতে পারে। এতে দলের কিছু যায় আসে না। সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের সাথে দালালি করার একাধিক প্রমাণ দলীয় চেয়ারপারসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি