শুক্রবার ২১ জানুয়ারী ২০২২
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » ফখরুল-রিজভীর ‘শীতল লড়াইয়ে’ সুবিধা নিচ্ছে কারা?



ফখরুল-রিজভীর ‘শীতল লড়াইয়ে’ সুবিধা নিচ্ছে কারা?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.01.2022

ফখরুল-রিজভী

নিউজ ডেস্ক: একজন উত্তর, আরেকজন দক্ষিণ মেরুর। কারও সঙ্গেই কারও মিল নেই। একজন ঘোর খালেদাপন্থী, আরেকজন তারেকের আস্থাভাজন। তবে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর খোলস বদলের পাঁয়তারা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এমনকি তৈল মর্দনের অংশ হিসেবে একবার এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি তারেককে দলের চেয়্যারম্যানও বলেছিলেন। কিন্তু সে শুকনো কথায় চিড়ে ভেজেনি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও কম যান না। তার নামে তারেকের কাছে সময় পেলেই করেন নালিশ। আর ফখরুল-রিজভীর শীতল যুদ্ধের এই সুযোগে ‘নতুন নেতৃত্বে আসার’ চেষ্টায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সে মোতাবেক তারা কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভীর দ্বন্দ্ব বেশ পুরনো হলেও বিষয়টি সামনে আসে মূলত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। পরবর্তীতে দুর্নীতির দায়ে দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হলে বিষয়টি আরও প্রকাশ্য হয়। খালেদাপন্থী ফখরুল হয়ে পড়েন কাগজে-কলমের মহাসচিব। পদে না থেকেও দলের সব কার্যক্রম পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো শুরু করেন তারেকের ‘ডান হাত’ খ্যাত রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সেই থেকে শুরু। যা এখনো চলমান। যার ফলে দলের সারাদেশের রাজনীতির অঘোষিত নিয়ন্ত্রক এখন রিজভী। তার ইশারা ছাড়া কোথাও কোনো কমিটির অনুমোদন হয় না। আর এ কাজে তার মাথার উপর ‘আশীর্বাদের ছাতা’ ধরে আছেন তারেক রহমান। যিনি এই পদ-কমিটি-মনোনয়ন বাণিজ্যের সিংহভাগ অর্থই লন্ডনে বসে পেয়ে যাচ্ছেন অনায়াসে। এ কারণে রিজভীর প্রতি ভালোবাসার শেষ নেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। রিজভী বলতেই তিনি অজ্ঞান। তাছাড়া স্বেচ্ছায় দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি সেখান থেকে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে খালেদাকে মুক্তির জন্য নানারকম তথাকথিত চেষ্টাও করেন রিজভী। জিতে নেন তারেকের মন। পক্ষান্তরে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তারেকের সঙ্গে ফখরুলের।

নীরবে এসব পর্যবেক্ষণ করে ‘সেই সুযোগে’ তাদের জায়গায় নিজেদের দেখতে চাইছেন বিএনপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তাদের চাওয়া, আব্দুল আউয়াল মিন্টু কিংবা মির্জা আব্বাস নয়, তারাই হবেন দলের পরবর্তী মহাসচিব। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছেন তারা।

এ বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেমন কিছু নয়। দলের জন্যই কাজ করছি। আর পদ-পদবী তো তারেক রহমান দেবেন। তাই তেমন যদি কিছু হয়, তবে তখন সবাই জানতে পারবেন। এখন যেভাবে চলছে চলুক না, ক্ষতি কি?

একই সুর মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিনের মুখেও। তিনি বলেন, নেত্রী (খালেদা জিয়া) অসুস্থ। তাই তারেক রহমানের কথা মতই সামনে অগ্রসর হচ্ছি। এর বেশি কিছু এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। আর চাঁদ উঠলে তো সবাই দেখতেই পারবে, তাই না!

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফখরুল-রিজভীর দ্বন্দ্বের কারণে বিএনপিতে আজ দুটি কেন্দ্র। একটি গুলশান কার্যালয়, আরেকটি নয়াপল্টন কার্যালয়। আর এই সুযোগটাকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় মেজর (অব) হাফিজ-আমির খসরুরা। চতুরতার সঙ্গে তারেকও বিষয়টি নিয়ে খেলছেন। তাদের সামনে মূলা ঝুলিয়ে ভারি করছেন নিজের পকেট। কিন্তু হাফিজ-খসরুরা হয়তো ভুলে গেছেন, নিজের প্রয়োজন শেষ হলেই অর্থলোভী তারেক তাদের নিক্ষেপ করবেন আস্তাকুঁড়ে। যেখান থেকে চাইলেও আর তারা মেরুদণ্ড সোজা করে রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না। কখনই নয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি