শর্মিলা কি বেগম জিয়ার উত্তরাধিকারী?

বেগম জিয়ার পর বিএনপি নেতৃত্ব কে নিবেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই এই নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। খালেদা জিয়া যেকোনো সময় সৈয়দা শর্মিলা রহমানকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন বলে বিএনপিতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আর এটি বিএনপির মধ্যে নতুন সংকট তৈরি করবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত প্রায় দেড় মাস ধরে শর্মিলা ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমস্ত তদারকি তিনি করছেন।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে শর্মিলাই বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে কাছের মানুষ। আর এটির পিছনে মানবিকতার চেয়ে ব্যক্তিগত কিছু স্বার্থ জড়িত রয়েছে বলে বিএনপির কোনো কোনো মহল দাবি করছেন। বেগম খালেদা জিয়াও শর্মিলার ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এখন বেগম জিয়া সিসিইউ থেকে কেবিনে এসেছেন, তিনি খুব একটা কথা বলছেন না। কিন্তু টুকটাক যে কথাগুলো বলছেন সে কথাগুলো শুধু শর্মিলার সঙ্গেই বলছেন। আর এই সমস্ত ঘটনার ফলে বিএনপিতে এখন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, কে বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার এবং সেখানে শর্মিলার নামটি আসছে।
বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানই খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার এটা মোটামুটি সকলেরই জানা ছিলো। বিশেষ করে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির রাজনীতিতে তারেক জিয়াই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এমনকি হাওয়া ভবনের মাধ্যমে তারেক জিয়া একটি সমান্তরাল সরকার গঠন করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া অনেকটাই পুতুলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার কোন সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হতো না তারেকের সম্মতি ছাড়া। এরকম একটি অবস্থার মধ্যে ওয়ান-ইলেভেন আসে এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক পর্যায়ে তারেক জিয়া মুচলেকা দিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর কিছুদিন বেগম খালেদা জিয়া একাই বিএনপি চালিয়েছেন কিন্তু তারপর আবার তারেক জিয়া বিএনপির বিভিন্ন বিষয়ে নাক গলাতে শুরু করেন। এখানেই বেগম জিয়ার সঙ্গে তারেকের প্রথম দ্বৈরথ শুরু হয়।
এছাড়া আর্থিক বিষয়গুলো তাদের বিরোধের আরেকটি বড় কারণ বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতেই ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হন। বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর শর্মিলা সিঁথি একাধিকবার বাংলাদেশে আসেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। বেগম খালেদা জিয়া যখন বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন তখন শর্মিলা আবার ছুটে এসে বেগম খালেদা জিয়ার দেখভাল করেন। এটি বেগম খালেদা জিয়াকে অনেকটাই দুর্বল করে তুলে। তাছাড়া তার ছোট ছেলে কোকোর অকাল মৃত্যুর পর তার দুটি বাচ্চার কি হবে এসব বিষয় বিবেচনা করে তারেক জিয়ার বদলে শর্মিলার প্রতি পক্ষপাতপূর্ণ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া।
সাম্প্রতিক সময়ে এই বিরোধে আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে এখন যখন বেগম খালেদা জিয়া অনেক বেশি অসুস্থ ছিলেন তখন তিনি আশা করেছিলেন যে, অন্তত জোবায়দা ঢাকায় আসবেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার তদারকি করবেন। কিন্তু জোবায়দা আসেননি। অথচ শর্মিলা এসেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ের দেখভাল করছেন। চিকিৎসার বিষয়ের পাশাপাশি শর্মিলা এখন বিএনপির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াতেও হস্তক্ষেপ করছেন বলে বিভিন্ন মহল জানিয়েছেন।
এমনকি তিনি বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠ যারা ছিলো তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন, কথা বলছেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন রকম নির্দেশনা দিচ্ছেন। আর এই সমস্ত সিনিয়র নেতারা তারেক জিয়ার চেয়ে শর্মিলার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আর এ কারণেই বিএনপিতে যেকোনো সময় একটি নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। যেকোনো সময় শর্মিলা বিএনপির প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন বলেও বিভিন্ন মহল আশংকা প্রকাশ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.