কূটনৈতিক পাড়ায় পাঁচ ইস্যুতে সরব বিএনপি

বিএনপি এখন রাজপথে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক পাড়ায়ও সরব হয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাস এবং বিদেশী মিশনে তারা ধরনা দিচ্ছে, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিএনপির পাঁচজন নেতা নিয়মিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান চীনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। মূলত পাঁচটি ইস্যুতে তারা এই যোগাযোগগুলো করছেন।
প্রথমত, খালেদার মুক্তি। বিএনপির নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন এবং তারা বলতে চাইছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায্যভাবে বিদেশ যেতে দেওয়া হচ্ছেনা এবং তার বিদেশ যাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। এটিকে তারা আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখাতে চাইছে।
দ্বিতীয়ত, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে এবং গুম হওয়া ব্যক্তিরা অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মী এই দাবী করছে। অন্তত তিনটি দূতাবাসে বিএনপি তাদের নেতাদের একটি তালিকা দিয়েছে যে তালিকায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় মিথ্যা মামলা নিয়েও বিএনপি এখন কূটনৈতিক মহলে দেন-দরবার এবং লবিং করছে।
তৃতীয়ত, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। বিএনপির নেতারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বড় বাঁধা বলে দাবি করছেন এবং এই প্রেক্ষিতে তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জন্য যেন আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয় সেজন্য বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
চতুর্থত, নির্বাচন কমিশন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে নানা রকম অভিযোগ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিভাবে পক্ষপাত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কিভাবে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
পঞ্চমত, দুর্নীতি। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন নেতারা পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসে অভিযোগ করছে যে, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এবং এ সমস্ত দুর্নীতি সম্পর্কে বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে সেই তথ্যগুলো তারা কূটনৈতিক মহলের কাছে তুলে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বিএনপির পাঁচজন নেতা এখন কূটনৈতিক পাড়ায় অত্যন্ত সরব এবং কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। ড. মঈন খান দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক মহলে পরিচিত এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কূটনৈতিক বিষয়গুলো তিনি দেখাশোনা করেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন বিএনপির নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার পুত্র তাবিথ আউয়াল। এরা দুজনও নিয়মিত বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কথা বলছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নিয়মিত তাদেরকে আপডেট দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখতে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি মনে করছে যে, রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহল যদি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই পর্যবেক্ষণ করে তাহলে সেটি বিএনপির আন্দোলনের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এখন পর্যন্ত বিএনপির এ সমস্ত দেন-দরবারে কোনো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.