হঠাৎ করেই শর্মিলার দেশত্যাগের রহস্য কি?

বেগম খালেদা জিয়া এখন হাসপাতালে। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দেখভাল করতে এবং তাকে সেবা করতে এসেছিলেন সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি আকস্মিকভাবে গত রাতে চলে গেছেন। তিনি যাওয়ার ক্ষেত্রে এত তাড়াহুড়ো করেছেন যে তার মেয়ে এবং তিনি দুজন আলাদা আলাদা দুটি ফ্লাইটে গিয়েছেন। কেন তাড়াহুড়া করে হঠাৎ আকস্মিকভাবে চলে গেলেন শর্মিলা সিঁথি এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে এখন নানারকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এটির আরেকটি প্রধান কারণ মনে করা হচ্ছে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।
উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন গত অক্টোবরে শর্মিলা সিঁথি তার মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি হলে সিঁথি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সহযাত্রী। তিনি তার চিকিৎসার দেখভাল করা, চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা ইত্যাদি সবকিছুই করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সিঁথি। এই সময় সিঁথি এবং তার মেয়ে করোনাতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যের চলে যান। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার শেষ করে তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনায় তিক্ত-বিরক্ত হয়ে সিঁথি লন্ডনে চলে গেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
সিঁথি এবং বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার চেয়েছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে বিদেশ যেতে পারে এজন্য সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করা হবে। এজন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার কাছে অনুকম্পা ভিক্ষা করতেও তারা রাজি ছিলেন। কিন্তু লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছিলেন। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে খালেদা জিয়ার মুক্তির মোড়কে আসলে সরকার পতনের আন্দোলন করছে বিএনপি তারেক জিয়ার নির্দেশে। এই আন্দোলনের ব্যাপারে শর্মিলা সিঁথির সায় ছিল না। তিনি মনে করেছিলেন যে, এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা বিঘ্নিত হবে। এমনকি এধরণের আন্দোলনের বাড়াবাড়ি হলে শেষ পর্যন্ত সরকার হয়তো তার জামিন বাতিল করে দিতে পারে এমন শঙ্কাও শর্মিলা বলেছিলেন। তাছাড়া যেভাবে বিএনপি চলছে তাতে শর্মিলার ধারণা হয়েছে যে বিএনপি আসলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না বরং বেগম খালেদা জিয়ার লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। তারা যে কোনো মূল্যে বেগম খালেদা জিয়ার একটা চূড়ান্ত পরিণত হোক এটা চায়। এটিকে তারা অবলম্বন করে তারা রাজনীতির মাঠ গরম করতে চায়। এজন্য শর্মিলা সিঁথি মনে করেছেন যে এই নোংরা রাজনীতি খেলার মধ্যে তিনিই থাকতে চান না। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে সেজন্যই তারা আর দেশে থাকছেন না চলে যাচ্ছেন।
অন্য একটি সূত্র বলছে যে, চিকিৎসকদের সাথে কথা বলার পর শর্মিলার জেনেছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা এখন আগের চেয়ে স্থিতিশীল এবং তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা যখন স্থিতিশীল তখন শর্মিলা আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়াটাকেই যৌক্তিক মনে করেছেন। আর এ কারণেই তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। তবে যে কারণেই যাক না কেন একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে রেখে যখন তার নিকটাত্মীয়রা চলে যান তখন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি বিএনপি নেতারা যখন বলছেন বেগম খালেদা জিয়া মুমূর্ষু, তাহলে বেগম খালেদা জিয়া যদি মুমূর্ষু হবেন তাহলে এই মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে তার পুত্র বধূরা কিভাবে নির্বিঘ্নে দেশের বাইরে চলে যেতে পারে সেই প্রশ্ন উঠেছে। শর্মিলার সিঁথির এই বিদেশ যাওয়ার ফলে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেয়ার দাবিটা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.