২০২৩ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র দাঁড়াতে আগ্রহী বিএনপি নেতারা

নিউজ ডেস্ক: দলীয়ভাবে যে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত থাকলেও নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তৃণমূল বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এরপরও কেউ ভুলক্রমে আগ্রহ দেখালে তাকে তৈমুর আলম খন্দকারের মতো বহিষ্কার হতে হয়। যার কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হবে বিএনপির- এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের আর বিশ্বাস নেই। প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণে তারা এখন বিকল্প উপায়ে জয়ী হওয়ার বিষয়কেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। অনেকেই বিএনপির ব্যানার বাদ দিয়ে সতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ক্রমাগত পরাজয়ের কারণে বিএনপির কাছে নির্বাচন আজ দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি দল যখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তখন তাদের নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়। বিএনপির ভেতর সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা ধরেই নিয়েছে যে তাদের দল ও প্রার্থীদের যে অবস্থা তাতে ভোট দিয়ে কোন লাভ নেই। আর এ কারণে কিন্তু বিএনপির হয়ে নির্বাচন করার পক্ষে তেমন উচ্ছ্বসিত হন না দলটি নেতারা। বিএনপির হয়ে নির্বাচন করাকে অনেকেই লস প্রজেক্ট বলে মনে করেন।

এদিকে বিএনপি ছেড়ে দেয়া একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থতা, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অবহেলা, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো নিয়ে নানা ধরণের অসন্তোষ, পদবাণিজ্য এমন একাধিক কারণে বিএনপির রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন খোদ দলটির কর্মীরা। বিএনপির বড় সমস্যা হলো, মাঠের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা। বিপদের দিনে কোন রকম সহযোগিতা করে না বিএনপির হাইকমান্ড, এমন শত শত অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতারা। দীর্ঘ একযুগ সময় পেলেও বিএনপি তৃণমূলের রাজনীতি পুনর্গঠনে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আজকে বিএনপির এই দুর্দশা। যার কারণে কেউ আজ বিএনপির ব্যানারে নির্বাচন করতে তেমন আগ্রহী হয় না। বিএনপির হয়ে রাজনীতি করা আর খাল কেটে কুমির ডেকে আনাকে সমানই মনে করছেন নেতারা। যার কারণে নির্বাচন নিয়ে তাদের এতো অনাগ্রহতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.