Exclusive: যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে লবিং ষড়যন্ত্রের বিষ বপন করে বিএনপি (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক: গত ৫ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিংয়ের জন্য বিএনপি-জামায়াতের টাকা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সেই লবিং ফার্মকে অর্থায়নের নথিপত্র হাতে নিয়ে বলেন, ‘মাসিক ৫০ হাজার ডলার ও বছরে ৬ লাখ ডলার হিসেবে ৩ বছরে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ১০টি ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।’

অনুসন্ধানে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। একিন গাম্প স্ট্রস হাউয়ার অ্যান্ড ফেল্ড বিশ্বব্যাপী পরিচিত শুধু একিন গাম্প নামে। ২০১৪ সালে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় লবিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের হাতে আসা সেই চুক্তিপত্রে প্রতিষ্ঠানটির কর্ম পরিধি এবং সাফল্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে হয়েছে। উল্লেখ রয়েছে, মার্কিন সরকার ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোয়েন্দা সংস্থা, সামরিক বাহিনী, নীতি-নির্ধারণী পর্যায়সহ সকল ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব লোকজন রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, তাদের হয়ে কাজ করা অংশীদারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের লোকজন রয়েছেন। ফলে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে কাজ করতে কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না তাদের। ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির মূল কার্যালয় এবং বিশ্বের ২১টি দেশে রয়েছে শাখা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে একিন গাম্পের সাথে বিএনপি চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তিপত্রে ক্লায়েন্টের নাম দেখানো হয়- ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’, ঠিকানা- ২৮, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা। একিন গাম্পের পক্ষে সই করেন মার্ক হ্যামারসন, যিনি প্রতিষ্ঠানের দুবাই ও লন্ডন শাখার প্রধান কর্তা। আর বিএনপির পক্ষে একিন গাম্পের সাথে চুক্তিতে সই করেন ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। যিনি যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন।

তবে টবি ক্যাডম্যানের সাথে সে সময় যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। দাবি করেন, এই চুক্তির সাথে তিনি যুক্ত নন এবং বিএনপির সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

চুক্তিতে স্পষ্ট টবি ক্যাডম্যানের নাম থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি অস্বীকার করলেন, এটি জানতে যোগাযোগ করা হয় একিন গাম্পের ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশন বেঞ্জামিন হ্যারিসেন সাথে। তিনি স্বীকার করেন, নথিতে যা আছে, তা সত্যি। তবে ক্লায়েন্টের সাথে যেসব বিষয়ে কাজ করছেন তারা, সে বিষয়ে মুখ খোলননি তিনি। বিএনপির হয়ে টবি ক্যাডম্যানই একিন গাম্পকে এ কাজের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেছে কি না জানতে চাইলে বেঞ্জামিন জানান, হ্যাঁ, টবি ক্যাডম্যানই বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন।

পরে একিন গাম্পের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জবাব এবং নথির বিষয়টি উল্লেখ করে টবি ক্যাডম্যানকে ই-মেইল করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, এ মুহূর্তে বিএনপির সাথে কাজ করছেন না। আর পূবর্বর্তী সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। কারণ এতে ক্লায়েন্টের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এই টবি ক্যাডম্যান ২০১০ সাল থেকে মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আযমসহ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হয়ে বিশ্বব্যাপী ওকালতি করেছেন। বিএনপি জামায়াতের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালালে দেখা যায়, তিনি বিএনপি নেতা যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে টবি ক্যাডম্যান বলেন, অনেক আগেই সাকা চৌধুরীর পরিবার আমাকে তাদের আইনজীবী দলকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করেছিল, আমি তা দিয়েছি। আর জাতিসংঘের কাছে সাকার মামলার বিষয়ে সকল কাগজপত্র ও আবেদন জমা দিয়েছিলাম।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একিন গাম্প বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মার্কিন নীতি নির্ধারক, সুশীল সমাজ ও বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক করিয়ে দেবে। আর সেই সাথে লবিং করবে- সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের আওতা থেকে বাঁচানোর জন্য।

এসব কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে মাসে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার করে ৩ মাসের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার অগ্রিম দেওয়ার বিষয়টি চুক্তির শর্তে উল্লেখ করা হয়। আর কাজের ধরন বুঝে এই পারিশ্রমিকের পরিমাণ দ্বিগুণ বা কয়েকগুণ হতে পারে। পরবর্তীতে যা ২ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে। যিনি যুদ্ধাপরাধী বিএনপি-জামায়াত নেতাদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। সাকা চৌধুরীকে রক্ষা করার জন্য পাকিস্থান থেকে ভুয়া নথি বানিয়ে আনার পর আদালতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হলে বিচারপতি তাকে তিরস্কৃত হয়েছিলেন।

এই আইনজীবী লবিংয়ের কার্যক্রমের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, টবি ক্যাডম্যান তো বিএনপির কেউ না। তিনি মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করেন। পার্টির পক্ষ থেকে কিছু করছেন কি না বলতে পারবো না। আর লবিং অন্যায় কিছু না।

এ বিষয়ে বিএনপির আর কোনো নেতা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

https://www.facebook.com/BanglaNewsFeed247/videos/253294753474345/

Leave a Reply

Your email address will not be published.