যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের তথ্য ইসিতে

‘বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে তার পেছনে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছে বিএনপি। বিদেশি লবিস্ট নিয়োগে ৮টি চুক্তি করেছে বিএনপি-জামায়াত। এর মধ্যে তিনটি চুক্তি করেছে বিএনপি। এই তিন চুক্তিতে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিএনপি অফিসের ঠিকানাও চুক্তির কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া নেই। তবে চুক্তির কপিতে তাদের নাম রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে।’

গত (মঙ্গলবার) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম।

তার একদিন পর বুধবার প্রতিমন্ত্রী জানালেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি করেছে বিএনপি, তার প্রাথমিক তথ্যাদি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠানো হয়েছে।’

সন্ধ্যায় নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালায় আয়-ব্যয় হিসাব দেওয়ার বিধান আছে। যেহেতু বিএনপির নয়া পল্টনের ঠিকানায় এই চুক্তি হয়েছে, সেজন্য কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গেল এবং সেটি লিপিবদ্ধ কিনা বা নিরীক্ষিত যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে ওই সময়ের জন্য, সেখানে এই লেনদেন লিপিবদ্ধ আছে কিনা- তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছি। যদি এর ব্যত্যয় হয়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আমি মনে করি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরো লেনদেনের দালিলিক প্রমাণ নেই। এটি বিশেষজ্ঞদের কাজ। আমার কাছে যতটুকু প্রাথমিক তথ্য আছে ততটুকু দিয়েছি।’

এর আগে গতকাল শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, বিএনপির হয়ে আব্দুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তি চুক্তি করেছেন। আর যে লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়, সেটির নাম ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক এলএমসি। ২০১৮ সালে করা চুক্তিতে ১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বিএনপি। সব মিলিয়ে তিনটি চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে দলটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.