জিয়ার জন্মদিনে কেক কেটে তারেকের তোপের মুখে ‘বহিষ্কৃত’ তৈমূর!

জিয়ার জন্মদিনে কেক কাটলেন তৈমূর

নিউজ ডেস্ক: প্রথমে হারালেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ, এরপর এলো অব্যাহতি। সবশেষে দল থেকে বহিষ্কার হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সদ্য পরাজিত মেয়রপ্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এর একদিন পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে তারেক রহমানের তোপের মুখে পড়েছেন বহিষ্কৃত তৈমূর। খেয়েছেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, দল থেকে বহিষ্কারের পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেও তৈমূর বলেছিলেন, আজীবন তিনি বিএনপির সমর্থক হিসেবে থাকবেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ জানুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মজলুম মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের পাশাপাশি কেকও কাটেন তিনি। এসময় জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি, জেলা ও মহানগর যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আর এ খবর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে মুহূর্তেই পৌঁছে যায় লন্ডনে। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তৈমূরকে ফোন দিয়ে করেন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তারেক। বলেন, দলের প্রতি যদি এতই দরদ থাকবে আপনার, তাহলে কেন আমার দেয়া অফারে রাজি হননি? নাকি নিজেকে অনেক বড় নেতা মনে করেন আপনি? নারায়ণগঞ্জে আপনিই সব নন, বুঝলেন তো এবার?

ক্ষুব্ধ তারেক আরও বলেন, বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও আপনার সাহস হয় কি করে বাবার (জিয়াউর রহমানের) জন্মবার্ষিকী পালনের? কি ভেবেছেন আপনি? যা খুশি তাই করবেন? ভুলে যাবেন না, আমার কথাই বিএনপিতে শেষ কথা। যেটা আপনি শোনেননি, আর যার কারণেই একে একে হারিয়েছেন সব। নেতা থেকে পরিণত হয়েছেন সাধারণ মানুষে। এখন কেমন লাগছে? বেশি পাকনামির এটাই ফল, বুঝলেন?

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করে তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে লালন করি, ধারণ করি। তাই কে কি বললো, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। অনাগত দিনগুলোতে কিভাবে চলবো, তারই সমীকরণ কষছি। সে যাত্রায় যদি কেউ পাশে নাও থাকে, তাতেও কোন সমস্যা নেই। কারণ, ওই যে একটা গান আছে না, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে। আর হ্যাঁ, আরেকটা কথাও তারেক সাহেবের মনে রাখা উচিত, তৈমূর আলমের কোন পদ-পদবি লাগে না, সে নিজেই একটা ব্র্যান্ড।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৈমূরের প্রতি তারেকের একটাই ক্ষোভ, তিনি তার ডিমান্ড পূরণ করেননি। পাশাপাশি শোনেননি তার কথাও। এমনকি একপ্রকার তার দিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেই বহিষ্কারের পরেও করেছেন জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন। আর এতেই আঁতে ঘা লেগেছে তারেকের। লন্ডন থেকে মুখে যা এসেছে, ফোনে তাই-ই বলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক এই আহ্বায়ককে। এ থেকেই তার ও বিএনপির আসল মতাদর্শের প্রমাণ মেলে। বোঝা যায়, তারা কত হীন মানসিকতার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.