এক নির্বাচনে ‘টালমাটাল’ বিএনপির রাজনীতি

‘পলিটিক্যাল হান্টিং গ্রাউন্ড অব বেঙ্গল’ খ্যাত প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি এখন টালমাটাল। এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেন ‘তছনছ’ করে দিয়ে গেল নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি।

এক নির্বাচনের জন্য জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে রীতিমতো বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

যদিও বিএনপির নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আইভীর নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করাটা ছিল দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী। তবে এ বিলুপ্তি আর বহিষ্কারের ঘটনায় উভয় দলের একটি অংশ বেজায় খুশি হলেও মূলধারার বা রাজপথে থাকা বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মী সমর্থকদের মাঝে চলছে ক্ষোভের দাবানল।

এদিকে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির রাজনীতিকে রীতিমতো ধরে রাখা অ্যাডভোকেট তৈমুর ও এটিএম কামালের মতো ২ ত্যাগী নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি নিজের পায়ে কুঠারাঘাত করেছে বলে মনে করেন নগরবাসী। তারা বলছেন, এমনিতেই বিএনপিতে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সিনিয়র নেতার সংখ্যা কম। সেখানে এই ২ নেতা না থাকলে বিএনপির রাজনীতি আগামীতে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সময়ই বলে দিবে।

বহিষ্কারের খড়গ পরেছে ‘জাঁদরেল’ বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও এটিএম কামালের ওপর। সেই নাসিক নির্বাচনকে ইস্যু করেই এই ২ মাঠের পরীক্ষিত নেতাকে ১৮ জানুয়ারি স্থায়ী বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

২০১১ সালেও শামীম ওসমানকে ঠেকাতে রীতিমতো কোরবানি দেওয়া হয়েছিল ওই সময়ের বিএনপিপ্রার্থী তৈমুরকেই। এবার হলেন স্থায়ী বহিষ্কার।

জানা গেছে, ইতোমধ্যেই জেলা বিএনপির আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) করা হয়েছে রূপগঞ্জে তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি নাছির উদ্দিনকে; যার বিরুদ্ধে সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ উঠেছিল বহু আগেই। এদিকে তৈমুর ও এটিএম কামালকে বহিষ্কারের পর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তারা বলছেন, ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতি ধরে রাখতে এই দুই নেতা অর্ধশত মামলা খেয়েছেন, এটিএম কামাল জেল খেটেছেন বহু মাস। নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকার জয়ী হলে এই বিএনপি ডেকে নিয়ে তাকে ও কামালকে ফুল দিয়ে সম্মান করতো। অথচ এখন তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, তৈমুরের নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ২৭টি ওয়ার্ডে বিএনপির হামলা-মামলা খাওয়া কর্মীগুলো জেগে উঠেছিল। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তির পরিচয়ও দিয়েছে। কিন্তু এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আর কোনো কর্মীকে রাজপথে টেনেও নামানো যাবে না।

তবে এই বহিষ্কারে খুশি হয়েছেন গত নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত ও সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনপন্থিরা। কারণ এ নির্বাচনে তারা নেপথ্যে ও সরাসরি তৈমুরের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.