বাঘায় গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বিএনপির ইউনিয়ন কমিটি

রাজশাহীর বাঘায় দলীয় গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে কমিটি গঠনের কথা ছিল। সেই হিসেবে ঐ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড মিলে ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৫৯ জন। সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণের কথা ছিল দিঘা পরিত্যক্ত ভোকেশনাল স্কুলে।

কিন্তু হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পূর্বঘোষিত সব কিছু উপেক্ষা করে দিঘা আঠালিয়াপাড়া এলাকায় জামালের পাটের গোডাউনে সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ইউনিয়ন কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক পদে নির্বাচন করা হয়। এতে ভোটার ছিলেন ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

তবে ইউনিয়ন কমিটির তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। প্রিজাইটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আশরাফুজ্জামান বিদ্যুৎ সভাপতি পদে রেজাউল করিমকে, সাধারণ সম্পাদক পদে নাসির উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোয়াজ্জেম হোসেনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফকরুল ইসলাম বাবলু ও সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিনের তত্ত্বাবধানে কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী মো. ইন্তাজ আলী, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. নবাব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী কামরুজ্জামান টুটুল বলেন, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৯টি ওয়ার্ডের ৪৫৯ জন ভোটারের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা ছিল। সেই মোতাবেক ৩টি পদে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন। কিন্ত হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে অন্য জায়গায় কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এসব অনিয়মের কারণে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে বাউসা ইউনিয়নের পীরগাছা মোড়ে উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করে প্রতিবাদ জানানো হয়।

তারা আরো বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ সমর্থক। গ্রুপিংয়ের কারণে দলীয় গঠনতন্ত্র বহির্ভূত নিজেদের ইচ্ছামতো ইউনিয়ন কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করছেন। ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও ইউনিয়নে সেই নিয়ম মানা হয়নি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জয়লাভ করতে পারবেন না জেনে তারা ছিলেন না। তারাই প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.