খালেদার অনুসারীরা বিএনপিতে কোণঠাসা

আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতি হিসেবে দল পুনর্গঠনের কথা বলে একে একে খালেদা জিয়ার অনুসারী নেতাদের বিএনপি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে এসব নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুঃসময়ে কাজ করলেও খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত হওয়ার কারণেই তাদের সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

নতুনদের সামনে আনার কথা বলে মূলত তারেক রহমানের অনুসারীদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। অভিজ্ঞদের এভাবে ঝেড়ে ফেলে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার নামে তারেকের অনুসারীদের হাতে দল তুলে দেওয়া ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অনেক নেতা।

গত ৯ ডিসেম্বর খুলনা জেলা ও মহানগর, রাজশাহী মহানগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঐ দিন নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বাদ দিয়ে খুলনা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।

৩৩ বছর ধরে খালেদার ছায়াতলে রাজনীতি করা এ প্রভাবশালী নেতাকে বাদ দিয়ে তারেকের অনুসারীদের কমিটিতে আনা হয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মঞ্জুকে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি যে একটি অজুহাত মাত্র, তা বোঝা যায় একই দিন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায়। অমিত তরুণ নেতা, তারেক রহমানের সঙ্গে তার সুগভীর সম্পর্কের বিষয়টি বিএনপিতে সবাই জানেন।

একইভাবে রাজশাহী মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সেখানে মিজানুর রহমান মিনুর অনুসারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটি থেকে সরানো হয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও এমপি হারুন অর রশিদের অনুসারীদের। তারা সবাই খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত নেতা। এর আগে মজিবুর রহমান সরোয়ারকে বাদ দিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। বরিশালে খালেদার সবচেয়ে আস্থাভাজন ছিলেন সারোয়ার।

সূত্র জানায়, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরোনো নেতাদের সরিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মূলত তারেকের অনুসারীদের পদে বসানো হচ্ছে।

খালেদার অনুসারী অনেক নেতা তারেকের কথা শোনেন না, ফলে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ধরে রাখতে কষ্ট হচ্ছে তারেকের। তারেক চাচ্ছেন, খালেদার অনুসারীদের সরিয়ে সব পদে নিজের আজ্ঞাবহদের বসাতে। এতে তারেকের সিদ্ধান্তের পথে আর কেউ বাধা হবেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, দল পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। নতুন কমিটি করার ক্ষেত্রে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে শুধু নতুনদের সামনে নিয়ে আসলে আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। আর ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) আস্থাভাজন সবাইকে বাদ দিয়ে শুধু তারেক রহমানের আজ্ঞাবহ নেতাদের বসালে দল গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, এসব বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। এটা আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারেক রহমান যা ভালো মনে করবেন, তাই হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নতুন নেতৃত্ব সব দলেই আসবে। কিন্তু একবারে পুরোনোদের বাদ দিলে দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি হবে। কিন্তু এসব ব্যাপার তারেক রহমানের মাথায় ঢুকবে না, তিনি চান আনুগত্য। কিন্তু এটা তো গণতান্ত্রিক দলের বৈশিষ্ট্য নয়, রাজতন্ত্রে এমন হয়। বিএনপিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দলের নেতাদের আস্থা হারাচ্ছেন তারেক, আমার মনে হয় এতে দ্বন্দ্ব-বিভক্তি আরো বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.