ভিন দেশের ঘাড়ে চেপে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর অন্য দেশের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে চাইছে বিএনপি। সম্প্রতি এ বিষয়ে চীনের কাছে পাত্তা না পেয়ে ভারতের দিকে ঝুঁকেছে দলটি।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু হঠাৎ দলের নীতিতে পরিবর্তন এনেছেন বিএনপির নেতারা। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় যেতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছিল দলটি। কিন্তু ভারতের কাছে অন্যায় আবদার করে অপদস্থ হয়ে চীনের দিকে ঝুঁকেছিল বিএনপি। কিন্তু ২০২১ সালের শেষে এসে চীনের কড়া সমালোচনা করে আবার ভারতের শরণাপন্ন হতে যাচ্ছে বিএনপি।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির এক সিনিয়র সদস্য জানান, ভারতের সহযোগিতা পেতে বিএনপি নেতারা এখন ব্যস্ত। গত তিন মাস ধরে বিএনপির অনেক নেতা ভারতের সঙ্গে গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন।

জানা যায়, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভারতের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। অমিত শাহকে প্রভাবিত করে ক্ষমতায় যেতে চায় বিএনপি। কিন্তু কূটনৈতিক মহল মনে করছেন- অমিত শাহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না।

তারা মনে করছেন- ১৬ ডিসেম্বর দুই দেশের সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফর করবেন। তাই খালেদা জিয়ার ইস্যু নিয়ে ভারত নাক গলাবে না।

সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর কড়া সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চীনকে ধিক্কার জানান।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কূলহারা বিএনপি এখন ভিন দেশের ঘাড়ে চেপে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ক্ষমতার জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে বিএনপির লজ্জা নেই। চীন কিংবা ভারত বাংলাদেশের সরকার নির্বাচন করে না। দেশের জনগণই ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করে। চীন বা ভারত আমাদের বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র। ক্ষমতার জন্য কোনো দেশের দ্বারস্থ হওয়া দলটির জন্য লজ্জার বিষয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.