শাবিপ্রবির আন্দোলনে কলকাঠি নাড়ছেন কারা?

শাবিপ্রবির আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক: ছোট্ট একটি বিষয়, তৃতীয় পক্ষের মদদে রূপ নিয়েছে একটি বড় আন্দোলনে। কেন এমন হলো, এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা গেলো, নির্দেশনা এসেছে খোদ লন্ডন থেকে। তারেক রহমান বলেছেন, যেহেতু খালেদা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার উপযোগী হয়ে গেছেন, আন্দোলনের তেমন ইস্যুও নেই, তাই শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের উপর ভর করেই নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে হবে। আর এ কাজে যত টাকা লাগুক না কেন, তা বিএনপি-জামায়াত জোট দেবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, গত ১৩ জানুয়ারি শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা লন্ডনে তারেক রহমানকে জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রত্যুত্তরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাফ জবাব, ক্যাচ দ্য ইস্যু অ্যান্ড বি সাকসেস। তারপর থেকেই বিএনপির ইন্ধন শুরু। বিভিন্ন সময়ে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে দেখা গেছে, বিএনপির দলীয় ক্যাডারদের আনাগোনা। তারা সশরীরে উপস্থিত থেকে শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসে অশান্তি ছড়াতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

ছাত্রদের মধ্যে অছাত্র তথা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ঢুকে পড়ার কথা নিশ্চিত করে একাধিক শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাসে হঠাৎ করেই বেড়েছে অছাত্রদের দৌরাত্ম। সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আন্দোলনের বিষয়টি দেখভাল করে তার সুরাহা করার চেষ্টা করলেও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আগুনে ঘি ঢালার মতো উসকানি দিচ্ছে এই তৃতীয় পক্ষের লোকজন। অথচ এদের কেউই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী নন। তাই ভয় হচ্ছে, কেউ এর ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে না তো!

শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবেদককে আরও বলেন, আন্দোলন চলাকালে দেখা যাচ্ছে প্রায়ই একদল মানুষ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নিয়ে আন্দোলনস্থলের আশেপাশে তা সেবন করছেন। কিছু বলতে গেলে, তারা মারতে উদ্যত হচ্ছেন। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। তাই এখন মনে হচ্ছে, হলের ছোট ঘটনা থেকে ভিসি পদত্যাগের পুরো ঘটনাটিই তৃতীয় পক্ষের স্ক্রিপ্টেড একটা ঘটনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি টিকে আছে পরজীবীর মতো। নিজেদের বলতে তাদের কিছুই নেই। তাইতো বারবার শিক্ষার্থীদের উপর ভর করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এর আগেও বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে তারা অর্থায়নসহ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছে। যার প্রমাণ দেশবাসী ইতোপূর্বে পেয়েছে। তাই এমতাবস্থায় শাবিপ্রবিসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তি বজায় রাখতে সরকারসহ আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে, কোনভাবেই তারা তাদের নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় বসতে না পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.