খালেদা জিয়ার মুক্তি- এক স্বপ্নের নাম

khaleda

নিউজ ডেস্ক: দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত থাকলেও সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া এখন অদূর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কেননা, সর্বশেষ ছয় মাসের শর্ত সাপেক্ষে জামিনে আছেন তিনি। যদিও পূর্ণ জামিন নয়। বেগম জিয়াকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে করতে ২০১৮ সাল থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিলেও তা নিয়ে তৃণমূলের নির্বিকার অবস্থা দেখে হতাশায় পড়েছে বিএনপি।

বিগত চার বছরে স্থায়ী কমিটির শতাধিক বৈঠক শেষে শতাধিক কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার কথা থাকলেও তাতে বিশেষ সাড়া মেলেনি নেতাকর্মীদের। সারা দেশের বিএনপির সকল কর্মসূচি পালিত হয়েছে নিরুত্তাপের সঙ্গে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির অভ্যন্তরে বিরাজমান হতাশা আরও তীব্রভাবে জেঁকে বসেছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, এতদিন পর্যন্ত তৃণমূলের কর্মীরা আন্দোলন-কর্মসূচির মনোভাবে কঠোর থাকলেও সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করেনি কেন্দ্র। যখন তাদের উদ্বেলতা ঝিমিয়ে পড়েছে, অনাস্থা তৈরি হয়েছে- তখন কেন্দ্র আন্দোলন-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এমন বাস্তবতায় কিভাবে তীব্র কর্মসূচি আশা করে কেন্দ্র?

এদিকে বিএনপি ঈদের পর কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও বিএনপি নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্ততার অভাবে অংশগ্রহণ না করায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন মির্জা ফখরুলরা। এরকম বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচির কথা ভেবেও তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখছে না।

এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মূলত নিরাপদ স্থান বেছে বেছে সবাই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। কথায় আছে- সময় গেলে সাধন হবে না। যখন তৃণমূলের দাবি ছিলো আন্দোলনের, তখন নেতারা চুপ ছিলো। এখন নেতারা আন্দোলন চায় কিন্তু চুপ করে আছে তৃণমূল। এই সমন্বয়হীনতা বিএনপিকে নিঃশেষ করেছে। এছাড়া নেতারা বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত। তারা নিজেদের সংসারের কথা ভাববে নাকি দলের কথা ভাববে। মোট কথা সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামই সফল হয় না। বরং বিপদ বাড়ে!

Leave a Reply

Your email address will not be published.