মোটামুটি জামিনে থাকায় আন্দোলন করার আগে ভাবছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক : শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পাওয়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অবমুক্ত করতে দুই বছর যাবত বড় আন্দোলন করার চিন্তা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেই বিএনপিতে- এমনটি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির নেতারা। তবে বিএনপির এমন ঘোষণাকে কেবল একটি কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, কারাগারে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় জামিন শুনানির প্রতিটি তারিখেই বিএনপির কর্মীরা সহিংসতা দেখিয়েছে। কিন্তু এখন তো খালেদা জিয়া মুটামুটি একপ্রাকারে জামিনেই আছেন। সে জন্য আন্দোলন করার আগে আমরা নতুন করে চিন্তা করছি। মূলত আমরা আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে চাচ্ছি। তবে এটা সত্যি আমরা কঠিন আন্দোলন করবো।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিএনপির বিগত সময়ের আচরণ বিশ্লেষণ করলে একটি শঙ্কা থেকেই যায়। যা ফেলে দেয়ার মতো নয়। ২০১৪ সালসহ বিভিন্ন সময়ে তাদের সহিংসতাপূর্ণ আচরণ স্বভাবতই সবসময়ই আতঙ্কের কারণ। ফলে তারা যখন-তখন পুনরায় নিজেদের দাবি আদায়ে সহিংস হয়ে উঠবে না এর কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নিজে যেহেতু মুক্ত আছেন, এ কারণে তিনি আন্দোলন-সহিংসতার দিকে না যেতে নির্দেশ দিলেও বিএনপি কর্মীদের আন্দোলন নিয়ে তুমুল তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি তারেক রহমানও আন্দোলনে ইন্ধন দিয়েছে। অর্থাৎ তারা দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা অমান্য করেছে। পরবর্তীতে সেই পথ ধরেই তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকারকে। পরবর্তীতে হঠাৎ করেই আন্দোলন থেকে সরে আসার ঘোষণাও দিলো। সব মিলে যেটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে- বিএনপি মূলত সরকারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এবং হঠাৎ করেই তারা সহিংসতার দিকে এগুবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ইস্যুকে কেন্দ্র বিএনপি কৌশলে সহিংসতা শুর করতে পারে- এ বিষয়ে বাহিনীর সদস্যরা সজাগ রয়েছে। তাদের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.