সেনাবাহিনীকে হটিয়ে পার্বত্যাঞ্চলকে জুম্মল্যান্ড বানাতে চায় সশস্ত্র উপজাতিরা

জেএসএস

নিউজ ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান খাগড়াছড়ি এই তিন এলাকায় জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার) সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ অনেকটা প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজি করছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, গাছের ফল, ক্ষেতের ফসল, জমি কেনা-বেচা, এমনকি ডিম-কলা বিক্রি করতে গেলেও চাঁদা দিতে হয় তাদের।

ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষক-শ্রমিক-মৎসজীবী, সড়কে চলাচলকারী যানবাহন, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, স্থানীয় উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবার, দেশীয় ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কাছে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। চাঁদা না দিলে করা হচ্ছে অপহরণ, নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যা।

ভুক্তভোগী বাঙালি ও উপজাতিরা এমনটাই জানিয়েছেন বাংলা নিউজ ব্যাংককে।

শুধু তাই নয়, এসব সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো মিলে রাঙামাটিকে স্বাধীন বাংলাদেশর মানচিত্র থেকে পৃথক করার দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রে মেতেছে। পাহাড়ি বাঙালি এবং উপজাতিদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে সেখানে জুম্মল্যান্ড করার পাঁয়তারা করছে এই সন্ত্রাসীরা। এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন- ৩৮ হাজার নিরস্ত্র বাঙ্গালী হত্যাকারী ও পার্বত্য চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘনকারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও খুনি সন্তু লারমা।

তার মদদেই কানাড প্রবাসী নাতনি অগাস্টিনা চাকমা জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম অফ ইনডিজেনাস ইস্যুস (ইউএনপিএফআইআই) এর ২১তম অধিবেশনে বিতর্কিত আদিবাসী প্রতিনিধি হিসেবে ‘সরকার ও সেনাবাহিনীর’ বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও অপপ্রচার চালিয়েছে।

পাহাড়ে প্রায় দু’যুগের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র আন্দোলন চলার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। চুক্তির পর খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে শান্তিবাহিনীর শীর্ষ গেরিলা নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) তার বিপুলসংখ্যক সহযোগী নিয়ে অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে একটাই দাবি ছিল যে, তারা পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। কিন্তু দীর্ঘ ২৪ বছরেও তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। অথচ সরকার অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।

অথচ জেএসএম মূলসহ পাহাড়ে চার সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ পার্বত্যাঞ্চলকে জুম্মল্যান্ড করার পাঁয়তারা করছে। চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও খুন। স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের এই অংশকে দখল করার। এ কারণে দেশি-বিদেশী লবিস্টও তারা অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ করেছে। সশস্ত্র গ্রুপের শীর্ষ নেতারা চাঁদার টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বিদেশেও বাড়ি আছে অনেকের। তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা এদেশে থাকেন না, বিদেশে পড়াশুনা করেন। আর এসব অশিক্ষিত মূর্খ সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপকে উস্কানি দেয় কতিপয় শিক্ষিত গ্রুপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে তারা। বিনিময়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের চাঁদার টাকার ভাগ পান তারা।

জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্তে মিয়ানমার ও মিজোরাম অবস্থিত। সীমান্তে প্রায় ১০১ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত। হাঁটা ছাড়া সেখানে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। পার্বত্য সীমান্তের ওপারে রয়েছে শান্তি চুক্তিবিরোধী উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের ৭টি আস্তানা। সেখান থেকে অবাধে আসছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। আর এসব মাদক ও অত্যাধুনিক অস্ত্র তারা ব্যবহার করছে এবং সেখান থেকে সারাদেশে উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র থেকে জানা যায়, চাঁদাবাজি, ক্ষমতা দখল, আধিপত্য বিস্তার ও ভাগবাটোয়া নিয়ে সশস্ত্র চার সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে গত এক বছরে শতাধিক মানুষ খুন-গুম হয়েছেন। আর পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর এ পর্যন্ত ২৪ বছরে পাহাড়ে সশস্ত্র চার গ্রুপের হাতে ৯ শতাধিক মানুষ খুন হয় এবং ১৫শ’ গুম হয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি ৫১ ভাগ মানুষ, বাঙালি ৪৯ ভাগ মানুষ। পাহাড়ি-বাঙালিরা শান্তির পক্ষে। তারা চায় না উপজাতিদের কোনো নেতা বা সংগঠনের হাতে ক্ষমতা যাক। তারা মনে করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের হাতেই নিরাপদ এবং শান্তিতে থাকবে বাঙালি ও উপজাতিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.