বিএনপি থেকে অব্যাহতি পেয়ে স্বস্তিতে মেয়র সাক্কু

সাক্কু

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত অংশ নেয়ার জন্য কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সদ্য বিদায়ী কুমিল্লা সিটির মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে অব্যাহতি নিলাম। এখন অনেকটা হালকা অনুভব করছি। শান্তি লাগছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, বিএনপি থেকে অব্যহতি কিংবা বহিষ্কার হয়ে সবাই অনেক খুশি হচ্ছে। এর আগে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন আখতারুজ্জামান। বহিষ্কার হওয়ায় আখতারুজ্জামানও চরম খুশি হয়েছিলেন। সে সময় আখতারুজ্জামান বলেন, এর চেয়ে খুশির বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। অনেকদিন থেকে চাচ্ছিলাম, এই দল আমাকে বহিষ্কার করুক। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও দলটি চলে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায়। তারেক রহমান হচ্ছেন দলের গড ফাদার। এমন একটি সৈরতান্ত্রিক দলে থাকার কোনো মানেই হয় না।

মূলত বিএনপিতে শুরু হয়েছে বহিষ্কারের রাজনীতি। গত দু’মাসে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়, তৈমুর আলম খন্দকার এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনসহ আরও ১৭০ জন ছোট বড় নেতাকে। বিগত ১০ বছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

তবে দলটির এই বহিষ্কার রাজনীতিতে হতাশ নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকা, নানা ধরণের মামলার পাহাড়ে চাপা পড়া এসব নেতাকর্মীদের এখন বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে আসছে বহিষ্কারের বিষয়টি। ফলে দলটির নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের যে মনোবাসনা, সেটিও ভেস্তে যেতে বসেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে আন্দোলনের চিন্তা তারা করছে, তাতে তারা কোনো সময়ই সফল হতে পারবে না। কারণ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কখনও কোনও আন্দোলন গড়ে তোলা যায় না। আর বর্তমানে বিএনপি’র যে অবস্থা, তাতে করে বিএনপির উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও হারানো পথে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি এই অধঃপতন দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই হচ্ছে। এই অধঃপতন অন্য কারও জন্য হচ্ছে না। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণেই এই অবস্থা। দলটির মধ্যে অসন্তোষ, বিভক্তি এবং মতভেদ চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করলেও তাদের এতে কিছু আসছে যাচ্ছে না। নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করায় তারা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচছেন। জনপ্রিয় নেতাদের বহিষ্কার আগামী নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের আলামত। বিএনপি’র মাঠের রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে। আর এই শূন্যতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে দলের ত্যাগী নেতাদের বহিষ্কার। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা দলটির এই শূন্যতা দলের ভিত্তিকে নড়বড়ে করে ফেলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতের রাজনীতি বিএনপি’র জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

বিএনপি বিদেশিদের দিয়ে সরকার উৎখাত করার স্বপ্ন দেখছে: হানিফ

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin বিএনপি বিদেশিদের দিয়ে সরকার উৎখাত করার স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় হলেও বর্তমান বাংলাদেশে তাদের এজেন্টরা এখনো বেঁচে আছে। তারা (বিএনপি) নানান সময়ে নানা মিথ্যাচার করে, অভিযোগ করে বিদেশিদের দিয়ে সরকার উৎখাত করার স্বপ্ন […]

বিস্তারিত

ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে শপথ নিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আজও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত-বিএনপির সব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে সবাইকে শপথ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব […]

বিস্তারিত

চৌদ্দগ্রামে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করলেন যুবদল নেতা

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় কর্মসূচিতে দাওয়াত না পেয়ে বিএনপি কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন যুবদল নেতা নাজমুল হক। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম বাজারের বিএনপির কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পৌর বিএনপির সদস্য সচিব […]

বিস্তারিত