অবশেষে এ সপ্তাহ থেকে বিরোধী দলগুলোর কার্যালয়ে যাচ্ছে বিএনপি

পর্দার আড়ালে আলোচনার পর অবশেষে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় দৃশ্যমান করছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাঁচ মাস পর এবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে যাবেন দলটির স্থায়ী কমিটির তিনটি টিমের সদস্যরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও আগ্রহী দলগুলোর শীর্ষনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রতিটি টিম পৃথকভাবে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রত্যেকটি টিমেই নেতৃত্বে থাকতে পারেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দলের প্রধানের সঙ্গে ফোনালাপে দিনক্ষণের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন বিএনপির নেতারা।

প্রস্তুতি নিয়েও পিছিয়ে যায় বিএনপি

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিরোধী অন্তত ৩০ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতারা আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনায় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন না করা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনসহ আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বিরোধী নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে দাবি আদায়ে একসঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে যুগপৎ কর্মসূচির বিষয়ে ঐকমত্য এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও আগ্রহী দলগুলোর শীর্ষনেতারা। আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় পর্বে দেশবাসীর সামনে ঐক্যের নতুন চেহারা দেখানোই আপাতত বিএনপি ও সমমনাদের চিন্তা, জানান একাধিক নেতা।

জানা গেছে, এ সপ্তাহে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে যাবেন বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ টুকু কোনও মন্তব্য করতে রাজি না হলেও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খুব দ্রুত শুরু করবো আমরা।’

জানতে চাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বিএনপির অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা হয়েছে। এখন তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন। এ সপ্তাহের কোনও একদিন তারা আসতে পারেন। তারা এলে স্বাগত জানাবো, কথা বলবো।’

প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর কাছে যাবে বিএনপি

বিএনপির পক্ষ থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। শনিবার (২১ মে) মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে বিএনপির মহাসচিব ফোন করেছিলেন। তারা আসবেন। তবে এখনও দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি।’

আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, ‘জনগণ যে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায়, কীভাবে রাজপথে নামতে পারি, সমন্বিতভাবে যুগপৎভাবে নামতে পারি কিনা; এসব বিস্তারিত আলোচনা করবো। বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর দাবিনামার সাযুজ্য রয়েছে। যার মধ্যে আছে, সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন তদারকি সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপির নেতারা আসবেন। আমরা তাদের কথা শুনবো। আমাদের দিক থেকে বলবো, কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য জনগণ আন্দোলন করবে না। সত্যিকার অর্থে কী কী পরিবর্তন আসবে, সেটা জানতে চাইবো। ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, সরকার কাঠামো কীভাবে গণতান্ত্রিক করা যাবে, এসব বিষয় থাকবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হয়ে গেছে। এখন আমরা আলোচনা করবো কোন পদ্ধতিতে আন্দোলন আগাবে। আন্দোলনের জন্য জাতীয় ঐক্য করার কাজ করছে বিএনপি। যার যার জায়গা থেকে সবাই কীভাবে আন্দোলনে যুক্ত হবে, এসব বিষয় আলোচনায় উঠে আসবে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সঙ্গেও বিএনপির একজন নেতার আলাপ হয়েছে। ২০ মে এ প্রসঙ্গে জানতে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।’

আ স ম রব নেতৃত্বাধীন জেএসডির সূত্র জানায়, অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রায় প্রতিদিনই আ স ম রবের বাসায় বিএনপির নেতারা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কোন দিন যাবেন, তা ঠিক হয়নি। রবের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেখা করবেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এখন আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই শুরু হবে। আমরা প্রেসকে জানাবো।’

বিএনপির সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগামী রবিবার (২২ মে) বা সোমবার দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলোর কার সঙ্গে কোন কোন নেতা সাক্ষাৎ করতে যাবেন, এ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.