পার্বত্য চুক্তির প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পার্বত্য চুক্তির প্রতিটি শর্ত ও ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে। ভূমি সমস্যার সমাধান হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। পাহাড়ে হানাহানি আর রক্তপাত চাই না। রক্তপাত বন্ধ করতে হবে।’

সম্প্রতি রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব বলেন। সকাল ১০টায় রাঙমাটি শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ দীপংকর তালুকদার।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নের জোয়ারে উদ্ভাসিত। সীমান্ত সড়ক, যেখানে যান রাস্তা, ব্রিজ ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়েছে ব্যাপকভাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পাহাড় থেকে শুরু করে সমতলে সারা দেশে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত, অন্ধকার থেকে আলোর পথে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ট্যানেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাঙামাটির নানিয়ারচরে চেঙ্গী নদীতে বিশাল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এখন এই সেতু দেখতে বহুদূর থেকে লোকজন আসছেন।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন বলে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে দেশ। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণে করেছেন। এতে বিএনপি অসন্তুষ্ট। পদ্মা সেতু হওয়ায় সারা দেশের মানুষ খুশি, আনন্দে উল্লসিত। অসন্তুষ্ট শুধু মির্জা ফখরুল এবং বিএনপি। তাদের বুকে বড় ব্যথা, তাদের বুকে বড় বিষজ্বালা। তারা আজ দিশাহারা। মানুষ খুশি আর বিএনপির শ্রাবণের আকাশে কালো মেঘ। এ জন্য তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ–বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনা–বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা প্রমখ।

পুরোনোরাই আবারও নেতৃত্বে

ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আবারও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন দীপংকর তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. মূছা মাতব্বর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে দীপংকর তালুকদারের প্রতি সম্মান রেখে সভাপতি পদপ্রত্যাশী নিখিল কুমার চাকমা ভোটাভুটি থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে বিনা ভোটে নির্বাচিত হন দীপংকর তালুকদার। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটাভুটি হয়। এতে কাউন্সিলরদের ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মূছা মাতব্বর। তিনি ১৩৮ ভোট পান। সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. কামাল উদ্দিন পান ১০২ ভোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published.