স্বপ্নসেতুর সুবাতাসে গাত্রদাহ বিএনপির

নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য’র বঙ্গবন্ধু সেতু। যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য এক মাইলফলক। ঠিক এবারের ২৫ জুন খরস্রোতা পদ্মার বুকে সেতু উদ্বোধন করে এমনই আরো একটি মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।

তথ্যসূত্র বলছে, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধনের আগে পদ্মা নদীতে সেতু স্থাপন বিষয়ে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছিলেন। এরই মাধ্যমে পদ্মা সেতুর সূচনা পর্বের যাত্রা হয়।

সে সময় ক্ষমতালোভী দল বিএনপির নানা গুজব, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রের জালে আটকে স্বপ্নসেতু পদ্মার প্রকল্প থেমে যায়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে পদ্মা সেতুকে লাল ফিতায় আটকে ফ্রিজিং করে রাখে পুরো ৫ বছর ধরেই। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি।

পরে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয় লাভ করে। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইস্তেহারে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রতি ছিল। সরকার গঠন করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেন। ফলে পদ্মা সেতু বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করতে সফল হয়। আর কদিন পরই যার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

এদিকে পদ্মা সেতু যখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়, সুবাতাস যখন বইছে মানুষের মনে তখন সেতুর উদ্বোধন নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। গুজব ছড়ানোর কারণে নাঈম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে এর পেছনে বিএনপি-জামায়াত দেশবিরোধী অপশক্তি জড়িত। এ নাশকতার হর্তাকর্তা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দেশের আপামর জনসাধারণ।

তারা বলছেন, যারা দেশের উন্নয়ন চায় না, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাৎ করে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে তাদের আর যাই হোক বিশ্বাস করা যায় না।

কিন্তু তাদের জেনে রাখা উচিত, পদ্মা সেতু চালু হলে পদ্মার আশেপাশের এলাকায় কলকারখানা হবে, চাকরি হবে, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ঢাকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হলে যাতায়াতের পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতেরও সংযোগ হবে। তাতে খরচ কমাতে সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার আশা করে ঢাকা নির্ভরতা কমে যাবে।

আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে জাজিরা পয়েন্টের ফেরিওয়ালা শহীদুল ইসলাম বলেন, আর তো কয়েকটা দিন। পদ্মা সেতু হলে কলকারখানা হবে, আমরা কাজ করতে পারবো। ব্যবসাও বাড়বে।

পদ্মা সেতুতে বিএনপির অবদান আকাশ কুসুম কল্পনা উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, পদ্মা সেতুর সাথে, পদ্মা সেতুর নামের সাথে, পদ্মা সেতুর স্বপ্নের কোথাও নেই বিএনপি, খালেদা জিয়া বা তার ষড়যন্ত্রের সাথে থাকা কারো নাম। পদ্মা সেতুর নামের সাথে বিএনপির নাম থাকা অবদান থাকা আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। আদতে পদ্মা সেতুতে বিএনপির কোনো অবদানই নেই, তাই তাদের এতো গাত্রদাহ। এই পদ্মা সেতু নিয়ে কত কথা, কত অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছে এই কুচক্রীমহল। পরে কানাডার কোর্ট মামলায় রায় দিয়েছে যে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে সব অভিযোগ এনেছে সব ভুয়া, মিথ্যা। দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এখানে টেকেনি। আসলে স্বপ্নসেতুর সুবাতাসে গাত্রদাহ হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপির।

Leave a Reply

Your email address will not be published.