‘বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই’

বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম।

আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার আয়োজন করে নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ।

এনামুল হক শামীম বলেন, স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনা করায় বাজেটের আকার, রাজস্ব আয়, রেমিট্যান্স, দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নে সাফল্য এসেছে। সব কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়। জাতির পিতা হত্যার পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকে পাঁচ বছর। মাঝে পাঁচ বছর বাদ দিয়ে ২০০৯ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর একটানা নিরলসভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে উপমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল এলাকার ওপর আমাদের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিগত ৫০ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন তা জাতির পিতা এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।

কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে ‘রোল মডেল’ উল্লেখ করেন এনামুল হক শামীম। তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীল ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে।

শরীয়তপুর-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তি নেই পরাজিত করতে পারে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে শপথ হোক, ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনকে পরিচালিত করতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

উপজেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মালের সভাপতিত্বে সভায় ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সহ-সভাপতি ওয়াহাব বেপারি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হক, আইন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা জহির সিকদার, উপজেলা সহ-সভাপতি বাদশা শেখ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ব্যাপারি প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.