বিএনপির মাস্টারস্ট্রোক : মান্না-জামায়াত নিয়ে নতুন খেলা শুরু বিরোধী শিবিরে

নিউজ ডেস্ক : ২০১৫ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে জামায়াত এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে এসে এই বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্ট্রোক করে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হবার পর খেলা আবারো পাল্টে গেছে। বর্তমানে খালেদা জিয়াকে সটকে জামায়াতের সঙ্গে সখ্যতা বেড়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার। এমনকি একইরকম ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে জামায়াতের পক্ষ থেকেও। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— মান্নাকে সামনে রেখে জামায়াত কি নতুন কোনো মিশনে নেমেছে?

ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো দাবি করছে, খালেদা জিয়ার স্ট্রোক কিংবা মারা যাওয়া, এমন কোনো কারণে নয়। মূলত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘সাংগঠনিকভাবে ব্যর্থ’ হওয়ায় মান্নাকে সামনে আনা হয়েছে। এর পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের সহযোগিতা ও পরামর্শ রয়েছে তাদের প্রতি। তবে, গুরুত্বপূর্ণ ওই দেশ দু’টির নাম জানাতে রাজি হননি কেউই। মির্জা ফখরুল সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির হাইকমান্ড নিজেদের মধ্যে কাউকে সামনে না এনে, রাজনৈতিক চাল হিসেবে মাহমুদুর রহমানকে সামনে এনেছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক পক্ষ মনে করে, প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের আপত্তি ও দেশের ভেতরে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশের বিরোধিতার কারণে দলটির উচ্চপর্যায়ের একটি বড় অংশ চায় বিএনপিকে ছেড়ে যাক জামায়াত। আর বিষয়টি বুঝতে পেরে মান্নাকে সামনে আসার পরামর্শ দিয়েছে জামায়াত। ইস্যু হিসেবে ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যু’র বিষয়টিকে সামনে এনেছে। এক্ষেত্রে বিএনপির যে অংশটি জামায়াতকে বাদ দিতে তৎপর, সেই মির্জা ফখরুলপন্থীদের কোণঠাসা করার কাজটি সহজ হয়। এটি হতে পারে ফখরুলকে কোণঠাসা করে বিএনপির দায়িত্বটা মাহমুদুর রহমান মান্না নিজের হাতে নেয়ার চেষ্টা।

যদিও জাতীয়তাবাদী ঘরানার কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে জামায়াতকে সঙ্গে রেখে সক্রিয় হয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। যদিও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব ছিলো যোজন-যোজন। সবমিলিয়ে এমন এক সময়ে জামায়াতের সঙ্গে মান্নার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। যদি বিএনপি থেকে সরে গিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াতের জোট তৈরি হয়, এতে অবাক হবার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

জাহেলিয়াতের যুগকেও হার মানায় বিএনপির শাসনামল

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সাথে জোট বেধে ২০০১ সালের কারচুপির নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল দুর্নীতি এবং দুঃশাসন। জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, দুঃশাসন, সীমাহীন লুটপাটে নিজের সন্তান তারেক রহমান ও মন্ত্রী-এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে তৎকালীন নিরক্ষর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ-বিদেশি কুখ্যাতি অর্জন […]

বিস্তারিত

মির্জা ফখরুলের পারফর্মেন্সে চরম অসন্তুষ্ট বেগম জিয়া

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের ধীরে চলা নীতি, জামায়াত বিরোধিতার কারণে তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ করে কোনো প্রকারের আন্দোলন না করে কেবল বক্তৃতায় নিজেকে আবদ্ধ রাখায় মির্জা ফখরুলের পারফর্মেন্সে চরম অসন্তুষ্ট বেগম জিয়া। গুঞ্জন উঠেছে, শিগগিরই তাকে ডেকে এনে মহাসচিবের […]

বিস্তারিত

যেভাবে বিএনপিকে মাটিতে মিশিয়ে দিলেন তারেক রহমান

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে বিএনপি। দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে তারেক রহমান বছর দেড়েক কারাগারে থেকে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে আসেন এবং ১৪ বছর ধরে লন্ডনেই আছেন। জানা গেছে, দলের সিনিয়র নেতাদের প্রতি অসম্মান, অন্য দল ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং […]

বিস্তারিত